সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: স্যার রাজেন মুখার্জি নিজেকে সব সময় শিল্পোদ্যোগী বলেই মনে করতেন৷ পরবর্তী জীবনে বাণিজ্যে সাফল্যের জেরে সামাজিক এবং অন্যান্য কাজে তিনি যুক্ত হন ঠিকই, তবে সদাসর্বদা তাঁর ব্যবসাকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতেন৷

যার জেরে বার বার সুযোগ পেলেও তৎকালীন বাংলায় ব্রিটিশ রাজের উচ্চপদে বসতে পারেননি তিনি৷ প্রথমবার ১৯১০ সালে তৎকালীন লেফটেন্যান্ট গভর্নর তথা ছোটলাট স্যার এডওয়ার্ড বেকার তাঁকে নিজস্ব বেঙ্গল এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে কৃষি ও শিল্প দফতর দিতে চাইলেও তিনি তা গ্রহণ করতে পারেননি আমলাতান্ত্রিক টানাপোড়েনের কারণে৷

আরও পড়ুন: সরকারি হাসপাতালে রোগীর উপর দুষ্কৃতী হামলা

স্যার রাজেন মুখার্জির শর্ত ছিল, ছোটলাটের ক্যাবিনেটে তিনি অবশ্যই যোগ দিতে পারেন, তবে তাঁর নিজস্ব সংস্থা মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি ছাড়বেন না৷ ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁর আর ওই পদ গ্রহণ করা হয়নি৷ ওই ঘটনার বছর আটেক বাদে লর্ড চেমসফোর্ড স্যার রাজেন মুখার্জিকে আবারও শিল্প দফতরের দায়িত্ব নিতে বলেন৷ কিন্তু পূর্বোক্ত অভিজ্ঞতার দরুন তিনি ওই প্রস্তাব এড়িয়ে যান৷ এর পর ১৯৩০ সালে বাংলার গভর্নর স্টানলি জ্যাকসন স্যার রাজেন মুখার্জিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন৷ সেই অনুরোধও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন৷

বিতর্ক এড়াতে স্যার রাজেন মুখার্জি রাজনীতি থেকে দূরেই থাকতে চাইতেন৷ কিন্তু তাঁর উদ্যোগে মুগ্ধ হয়ে স্যার রাজেনকে প্রশাসনিক কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ রাজের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা৷ ১৯১০ সালে ছোটলাট এডওয়ার্ড বেকারের ক্যাবিনেটের কৃষি ও শিল্প দফতর দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ আসে স্যার রাজেনের কাছে ৷

আরও পড়ুন: জঙ্গিদের মোকাবিলায় সত্যাগ্রহ নীতি নেবে কেন্দ্র? তোপ জেটলির

সেই সময় নানা ভাবে তাঁর কাছে অনুরোধ আসায় তিনি একটি শর্তে সেই দায়িত্ব নিতে রাজি হন৷ শর্তটি ছিল, তিনি মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানির অংশিদারি ছাড়বেন না এবং ক্যাবিনেটে স্লিপিং পার্টনার হিসাবে যোগ দেবেন৷ কিন্তু তাঁর এভাবে শর্তসাপেক্ষে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে যোগদানের ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায়৷ ব্রিটিশ রাজের প্রশাসনে নতুন দায়িত্ব পেতে চলেছেন জানার পর অনেকেই স্যার রাজেনকে আগাম শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন৷

সরকারিভাবে তখনও এই দায়িত্বভারের কথা ঘোষণা করা হয়নি৷ যদিও ঘোষণার আগের দিন সন্ধেবেলা ওই দফতরের সচিবের সঙ্গে ট্রেনে ভাগলপুর রওনা হওয়াটা এক রকম স্থির হয়ে গিয়েছিল৷ এই রকম একটা সময়েই এডওয়ার্ড বেকারের কাছে সেক্রেটারি অফ স্টেটের বার্তা এসে পৌঁছায়৷

আরও পড়ুন: প্রিয়াঙ্কার পিছু পিছু মুম্বইতে হাজির নিক

তাতে বলা হয়েছিল, যদি স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জি একান্তই তাঁর ব্যবসা থেকে নিজেকে আলাদা না করতে চান, তাহলে যেন তাঁকে আর ক্যাবিনেটে নিয়োগ না করা হয়৷ লন্ডন থেকে সেক্রেটারি অব স্টেটের চিঠি পাওয়ার পর এডওয়ার্ড বেকার স্যার রাজেনকে জানিয়ে দেন, রাজেনের ওই শর্ত মানা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তাঁকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন৷

এমন ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ধাক্কা খেয়েছিলেন রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জি৷ তবে পরে তিনি অনুভব করেন যা হয়েছে তাতে ভালোই হয়েছে৷ এক, তাঁকে তাঁর প্রিয় পেশা ও কাজের জগত থেকে আলাদা হতে হয়নি৷ দুই, ব্রিটিশ আমলাতান্ত্রিক কূটনীতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটাও তাঁর পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না৷

আরও পড়ুন: ভিন্ন পরিবেশেও পারফর্ম করতে আমরা তৈরি: বিরাট

এর আট বছর বাদে লর্ড চেমসফোর্ডের ক্যাবিনেটে শিল্প দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ফের অনুরোধ আসে স্যার রাজেন মুখার্জির কাছে৷ কিন্তু প্রথমবারের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর তিনি সেই অনুরোধ এড়িয়ে যান৷ এর পর ১৯৩০ সালে গভর্নর স্যার স্টানলি জ্যাকসন তাঁকে বেঙ্গল কাউন্সিলের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে মনোনীত করেন৷ কিন্তু সেবারেও স্যার রাজেন মুখার্জি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন৷

মুখ্যমন্ত্রিত্ব প্রত্যাখ্যান করলেও স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সেই সময় নিজে অনুভব করেছিলেন, রাজনীতি ও প্রশাসনে ব্যবসায়িক জগতের প্রতিনিধিত্বও থাকা দরকার এবং উত্তরোত্তর সেই প্রয়োজনটা বাড়ছে ৷ তবে শর্তসাপেক্ষে প্রশাসনিক কাজে ঢুকতে চেয়েছিলেন আর সেই শর্তপূরণ সম্ভব হবে না বুঝেই হয়তো নিজের রুটিন জীবন থেকে সরতে চাননি এই শিল্পপতি৷ ঢুকতে চাননি সক্রিয় রাজনীতি বা প্রশাসনে৷ তাছাড়া তিনি অনুভব করেছিলেন অজ্ঞ রাজনীতি ও লবি করে আখেরে ব্যবসার ক্ষতিই হয়ে যায় ৷

আরও পড়ুন: বাংলা ঘুষের রাজত্বে পরিণত হয়েছে, তোপ রাহুল সিনহার

তথ্য ঋণ: Sir Rajendranath Mookerjee , A personal study : By K.C. Mahindra

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.