ঢাকা: চির বিদায় নিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সুবীর নন্দী। ভারতীয় সময় ভোর চারটে নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুবীরবাবু।

গত প্রায় এক মাস ধরে তিনি নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। হার্ট এবং কিডনির সমস্যায় জর্জরিত ছিল তাঁর শরীর। প্রথমে কিছুদিন বাংলাদেশের মাটিতেই তাঁর চিকিৎসা হচ্ছিল পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় এই বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পীকে।

এদিন ভোরে সেখানেই দেহত্যাগ করেব সুবীর নন্দী। সিঙ্গাপুরে তাঁর মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী থাকেন। তিনিই বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। সুবীর নন্দীর জামাতা রাজেশ শিকদার সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে বলেন, “রবিবার রাতে একবার হার্ট অ্যাটাক হয় সুবীর বাবুর। সোমবার রাতেও আরও একবার হয় হার্ট অ্যাটাক। সিঙ্গাপুরের মাটিতে তৃতীয়বায় হার্ট অ্যাটাকের পরে ক্রমশ অবস্থার অবনতি হতে থাকে।” অবশেষে তিনি মৃত্যুর কাছে পরাস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজেশবাবু।

১৮ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় সুবীর নন্দীকে। সেদিন বিকেলেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে বরেণ্য এই শিল্পীর চিকিৎসা শুরু হয়।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী দীর্ঘ ৪০ বছরের গানের কেরিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে। চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে অবদানের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সঙ্গীতে অবদানের জন্য তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে তার জন্ম। শিল্পীর বাবা সুধাংশু নন্দী তখনকার একজন মেডিকেল অফিসার ছিলেন। বাবার চাকরিসূত্রে তার শৈশব কেটেছে চা বাগানেই । পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাগানেই ছিলেন। সেখানের একটি স্কুলেই প্রথম হাতেখড়ি। তবে পড়াশোনার অধিকাংশ সময় কেটেছে হবিগঞ্জ শহরে।

সঙ্গীতের সাথে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন মায়ের অনুপ্রেরণায়। তার মা পুতুল রানী খুবই চমৎকার গান করতেন। কিন্তু পেশাদারি সঙ্গীতে আসেননি কখনও। সুবীর নন্দীর বয়স যখন ৭-৮ বছর। বড় ভাই তখন ওস্তাদের কাছে গান শিখতেন। তখন তিনিও মায়ের কাছে গান শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথমে মায়ের কাছে এবং পরে ভাই তপন কুমার নন্দীর কাছ থেকেও সুবীর নন্দী গানের তালিম নিয়েছেন। এরপর স্থানীয় জগদীশপুর হাইস্কুলেও শিখেছিলেন তিনি । তাছাড়া ভাইবোনের সাথে দীর্ঘদিন পরলোকগত ওস্তাদ বাবর আলী খান সাহেবের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন তিনি।

১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন। জীবনের প্রথম গান রেকর্ড করেছিলাম ১৯৬৭ সালে রেডিওতে। পেশাগতভাবে সঙ্গীতে আসা হয় সত্তরের দশকে। সুবীর নন্দীর প্রথম প্লে-ব্যাক রাজা হোসেন খান ও সুজেয় শ্যামের (রাজা শ্যাম) সঙ্গীত পরিচালনায় আবদুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্য গ্রহণ’ ছবিতে ১৯৭৪ সালে। এর আগে ১৯৭২ সালে প্রথম ঢাকা রেডিওতে লাইভ অনুষ্ঠানে গান করে ছিলেন তিনি।