কলকাতা- সম্প্রতি নাট্যব্যক্তিত্ব সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। নাটকের মহড়া দেওয়ার নামে দিনের পর দিন ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। আর সেই হ্যাশট্যাগ মি-টুর মাধ্যমেই প্রকাশ্যে এল আর এক শিল্পীর স্বরূপ। মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ড খ্যাত রঞ্জন ঘোষালের বিরুদ্ধে পরপর তিন জন অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে দেবলীনা মুখোপাধ্যায়ও।

এক সংবাদমাধ্যমের কাছে দেবলীনা জানিয়েছেন, আমি ওনাকে (রঞ্জন ঘোষাল) কাকু বলে ডাকতাম। আমার যখন ১০ বছর বয়স, তখন থেকে আমায় উনি চিনতেন। উনি আমার বাবার বন্ধু ছিলেন। ২০০৩-২০০৪ সাল থেকে আমি ওনার সঙ্গে কাজ করা শুরু করি। তার পরে ওনার আসল চেহারাটা দেখি। আমাদের চ্যানেল থেকে আমায় ও আমার এক মহিলা সহকর্মীকে ওনার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা ওনার অফিস তথা গেস্ট হাউসে যেতাম। একদিন আমায় ডাকা হল। আমি গিয়ে দেখলাম, সেখানে আর কেউ নেই।

উনি সোফায় বসতে বললেন। ওনার পাশে। আমি নিশ্চিত ছিলাম, উনি আমার কোনও ক্ষতি করবেন না কারণ, বহু বছর ধরে উনি আমায় চেনেন। কিন্তু হঠাৎ উনি আমায় বিভিন্ন ভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। হঠাৎ করে আমায় পিছন থেকে জাপটে ধরে কাঁধে ওনার দাড়িওয়ালা মুখটা ঘষতে লাগলেন। সঙ্গে আমি চেঁচিয়ে উঠি। কেউ তখনই দরজায় বেল বাজায়। আমি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে আসি।

এই অভিযোগ নিয়ে আদালতেও মামলা দায়ের করেছিলেন দেবলীনা মুখোপাধ্যায়। কিন্তু পরে সেই মামলা তুলে নেন তিনি। এই বিষয়ে দেবলীনা জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার ক্ষমায় বিশ্বাসী। কিন্তু ওই ঘটনার পরেও রঞ্জন ঘোষাল তাঁর স্বভাব বদলাননি। ঘটনা থেকে কোনও শিক্ষাও নেননি।

সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রথমে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন রঞ্জন ঘোষাল। তিনি বলেন, এই অভিযোগ মিথ্যে। ও (দেবলীনা) আদালতে গিয়েছিল। কিন্তু আদালত এই মামলা খারিজ করে দেয়। আমি ওকে একবার কাজের জন্য জনসমক্ষে বকেছিলাম। সেই রাগ থেকেই এই অভিযোগ এনেছে বোধহয় ও।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুকে ক্ষমা চান রঞ্জন। ইতিমধ্যেই আরও দুই তরুণী রঞ্জনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। তাঁরাও জানান, বই, গান, দর্শন এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও পরে যৌনতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন রঞ্জন। এমনকী এক ষোল বছরের এক কিশোরীকেও মেসেঞ্জার চ্যাটে অশ্লীল প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, হ্যাশট্যাগ মি-টুর মাধ্যমে উঠে আসছে একের পরে এক চাপা পড়ে যাওয়া যৌন হেনস্থার অভিযোগ। শিল্প ও নিজেদের সামাজিক ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে দিনের পর দিন যারা এই অশালীন আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের শায়েস্তা করতে মি-টুর ভূমিকা অনস্বীকার্য।