নয়াদিল্লি: আগামী অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট মিটলেই দেশের পাঁচ রাজ্যে বাজতে চলেছে নির্বাচনের দামামা। ঐতিহাসিকভাবে আগামী বছরেই প্রথমবারের জন্য একটিমাত্র বাজেট পেশ হবে। রেল বাজেটকেও এক করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনসভার সদস্যরা। ২০১৭ সালের সেই ঐতিহাসিক বাজেটের পরেই উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, গোয়া এবং মণিপুরে হবে বিধানসভা নির্বাচন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, উক্ত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গেই অনুষ্ঠিত হবে।

এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য হতে চলেছে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন। দেড় দশক পরে সমাজবাদী পার্টির দখলে থাকা রাজ্যটিতে ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে ওই রাজ্যের ৮০টি’র মধ্যে ৭০টি আসনই পকেটস্থ করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু, দাদরি কাণ্ড সহ অন্যান্য বিভিন্ন কারণে এই মুহূর্তে অনেকটা ফিকে হয়ে গিয়েছে মোদী হাওয়া। অন্যদিকে ওই রাজ্যের শাসক সালের মধ্যেও চলছে কোন্দল। এমতাবস্থায় নিজেদের ঘর গোছাতে আসরে নেমেছে বিজেপি-কংগ্রেস সব পক্ষই। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরের বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধীর যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক। যদিও বিষয়টি থেকে দূরত্ব রেখে চলছে পদ্ম শিবির। উলটে গান্ধী পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে বরুণের কেলেঙ্কারির বল কংগ্রেসের কোর্টেই ফেলতে চাইছে বিজেপি। এই সব কিছু নিয়েই এবার জমজমাট লড়াই হতে চলেছে উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে।

পাক সীমান্তের রাজ্য পঞ্জাবে এবারে দুই বারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আকালি দল এবং বিজেপি জোটের। এবারের নির্বাচনে এই জোটকে পরাস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে ওই রাজ্যে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া আম আদমি পার্টি। দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বয়ং সভা করেছেন পঞ্জাবে। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে যথেষ্টই চাপে রয়েছে দীর্ঘ এক দশকের শাসক জোট।

উত্তরাখণ্ডে মাস খানেক আগে বেশ কিছু বিধায়কের দলবদল ঘিরে চাপে পড়েছিল কংগ্রেস সরকার। যদিও আইনি লড়াইয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত। তবে ২০১৭ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে বিরোধী বিজেপি শিবিরের কারণে যে যথেষ্ট বেগ হবে তা বলাই বাহুল্য। পর্যটনের গোয়াতে নির্বিঘ্নে প্রথম দফার মেয়াদ শেষ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পরিক্কর এই মুহূর্তে কেন্দ্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হয়েছেন তাঁর আমলেই হওয়া সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের উপর ভোর করেই রাজনীতির বৈতরণী পার করতে চলেছে কেন্দ্র। এই বিষয়টি গোয়াতে বিজেপি নির্বাচনী প্রচার চালালেও পিছিয়ে নেই কংগ্রেস। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাত। ওই রাজ্যে অনুন্নয়নের ময়লা ঝেটিয়ে বিদায় করতে প্রচারে গিয়েছিলেন আম আদমি অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পূর্বের রাজ্য মণিপুর শাসন করছে কংগ্রেস। মাঝে উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস খাতা খললেও বিধায়কদের দলবদলের কারণে ওই রাজ্য থেকে প্রায় মুছে গিয়েছে ঘাস ফুল। ওই রাজ্যে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে অলিম্পিয়ান মেরি কমকে হাতিয়ার করেছে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মণিপুরে পদ্ম ফোটাতে প্রচার করবেন বক্সার মেরি কম।

উক্ত পাঁচ রাজ্যের মধ্যে উত্তর প্রদেশের চলতি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মে মাসের ২৭ তারিখ। উত্তরাখণ্ডের বিধানসভার ক্ষেত্রে সেই তারিখ মার্চের ২৭। মার্চের ১৮ তারিখে বাকি তিন রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে।