সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : গীর্জায় মেলে ভ্যালেন্টাইনের দেহাংশ, শিবের সতী অংশই পুণ্য সতীপিঠ। কোন ফর্মুলায় জানা নেই কিন্তু সতী ও ভ্যালেন্টাইনের দেহাংশে পুণ্য হয়ে ওঠা ধৰ্মস্থান যেন মেলায় ইস্ট ও খ্রিস্টকে। 

ভ্যালেন্টাইন। তাঁকে নিয়েই তো যত প্রেম প্রতিজ্ঞা। কত ভালো বাসা গড়ে। কত ভালোবাসা প্রকাশ করে মৃত্যু পথ যাত্রী হয়। যেমনটা হয়েছিল ভ্যালেন্টাইনের ক্ষেত্রে। প্রেম , বিবাহের পক্ষে সওয়াল করলেন। আর তাঁর মাথা কাটা গেল। সে মাথা আজও সংরক্ষিত রোমেরই এক মিউজিয়ামে। বিভিন্ন দেহাংশ রক্ষিত আরও বিভিন্ন গির্জায়। অনেকটা সেই সতীপিঠের গল্পের মতোই। এক্ষেত্রে জড়িয়ে শিবের পত্নী প্রেম থেকে ক্রোধের কাহিনী। সাধে কি লালন গেয়েছিলেন ‘ইস্টে আর খ্রীষ্টে কোনও তফাৎ নাইরে ভাই’

কীভাবে মিলেছে দুই ধর্ম? রোমে উনিশ শতকে খননে মেলে এক নর কঙ্কাল। কথিত রয়েছে সেটি সন্ত ভ্যালেন্টাইনের। এই খুলি কসমেদিয়ানে ব্যাসিলিকা অফ সান্তা মারিয়ায় ফুল দিয়ে সাজানো আছে। এছাড়া অন্যান্য দেহাংশ আছে চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন গির্জায়।

তেমনই একই ভাবে কিন্তু সতী পিঠের আবির্ভাব। একটু এদিক ওদিক রয়েছে। পুরান অনুযায়ী দেবী সতী দক্ষ রাজার অমতে মহাদেবকে বিবাহ করেছিলেন। প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশে একটি যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন দক্ষ রাজা। যজ্ঞের আগুনে আত্মঘাতী হন সতী। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন মহাদেব। পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার ভয়ে ভগবান বিষ্ণু প্রলয় থামাতে, সুদর্শন চক্র পাঠিয়ে দেন। দেবীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে। এই সব কটি জায়গাকে সতীপীঠ বলা হয়।

অন্যদিকে সন্ত ভ্যালেন্টাইন হিসেবে রোমান ক্যাথলিক চার্চ যাকে প্রাধান্য দেয়, তিনি ছিলেন তৃতীয় শতকে ইতালির তার্নি শহরের বাসিন্দা। মধ্যযুগীয় বিবরণ থেকে জানা যায়, তাকে হত্যা করিয়েছিলেন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লদিয়াস। দ্বিতীয় ক্লদিয়াস মনে করতেন অবিবাহিত তরুণদের দিয়ে ভালো সেনাবাহিনী গড়া যায়। তাই তিনি তার সাম্রাজ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করে দেন। এটি যাজক ভ্যালেন্টাইন ভালোভাবে নেননি। তিনি গোপনে বিয়ে দিতে লাগলেন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের। তার এই বিরুদ্ধাচরণে ক্ষিপ্ত ক্লদিয়াস শিরশ্চেদ করে তাকে হত্যা করান। প্রেমের জন্য আত্মাহুতি দেন এই সন্ত।

কি? অঙ্ক মিলছে তো।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।