সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ওঁরা দেশের নারী শক্তি। রণক্ষেত্রে না হোক শিক্ষার মাধ্যমে দেশকে দিশা দেখাতে প্রস্তুত। কে বলতে পারে হাওড়া কলেজের ছাত্রীদের কোনও একদিন দেশের মুখ উজ্বল করবে না। কিন্তু আজ যা করল ওঁরা তা শুধু একার নয়, ভারতের সমস্ত মহিলার মুখ উজ্বল করার মতো কাজ। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে বীর শহিদদের স্মরণে মাথা নত করে ১১০০ জন বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজের ছাত্রীরা।

শুক্রবার দুপুর ১২টার সময় কলেজ প্রাঙ্গণে হাজির হয় ১১০০ ছাত্রী। অধক্ষ্যা জাতীয় পতাকা হাতে প্রথমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তারপর এক মিনিট ধরে নিরবতা পালন করেন প্রত্যেকে। এরপর হাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদ বেদীতে মাল্যদান কড়া হয়। এমন ছবি যেন এক অন্য ধরনের বার্তা দিল সমাজকে তা বলা যেতেই পারে।

প্রিন্সিপাল রুমা ভট্টাচার্য বলেন , “কাল কোনও এমন প্ল্যান ছিল না। করবোই বা কি করে, যখন ঘটনা শুনলাম তখন কলেজ ছুটি হয়ে গিয়েছে। আজ কলেজে এসেই আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসি। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত পৌঁছাই যে আমরা মৌনব্রতের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাব।”

আরও পড়ুন: ‘বাবা’ ডাকতে শেখার আগেই একরত্তি মেয়ের সামনে কফিন বন্দি দেহ

 

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকেই তো সোশ্যাল মিডিয়ায় শুনছি হইচই করছে। ওই হইচইতে আমি আমার মেয়েদের দেখতে চাই না। রাস্তায় নেমে পথ বন্ধ করেও এর ফল নেই। সাইলেন্ট স্ক্রিম বলে একটা পদ্ধতি আছে। আমাদের নিরবতা পালনের মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চেয়েছি।” বিজ্ঞানের এক ছাত্রী বলেন, “সিনেমায় জোশওলা ডায়লগ কপি করে প্রধানমন্ত্রী বললেন। সেটা ভাইরাল হল। তাতে কি হল? ফল তো দেখলেন। তাই জোশ দেখিয়ে নেয় নীরবতাই আমাদের প্রতিবাদের ভাষা।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআরপিএফ কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা হয়। শহীদ হন ৪২ ভারতীয় জওয়ান। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এটাই অন্যতম বড় জঙ্গি হামলা। ভয়াবহ আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে কাশ্মীরের অবন্তীপুরায়। এই হামলার দায় স্বীকার করে নেয় পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ।

শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়ের উপর দিয়ে বাসে চেপে যাচ্ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। সেইসময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।বিস্ফোরণের পর গ্রেনেড, গুলি ছুঁড়তে শুরু করে জঙ্গিরা। শহিদদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জঙ্গিদের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ট্যুইটে লেখেন, ‘পুলওয়ামায় সিআরপিএফের উওর হামলা নিন্দনীয়। আমাদের সাহসী জওয়ানদের এই বলিদান ব্যর্থ হবে না। শহিদ পরিবারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে গোটা দেশ’।