স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার জিডি বিড়লা স্কুল৷ ২০১৭ ডিসেম্বর৷ কনকনে ঠান্ডা৷ একরত্তি ছাত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে মিছিল করেছিলেন অভিভাবকরা৷ সেদিনও ছিল রবিবার৷ প্রায় দেড় বছর পর সেই রবিবারেই ফের রাস্তায় অভিভাবকরা৷ তবে এবার প্রতিবাদে নয়, আত্মঘাতী এক ছাত্রীর আত্মার শান্তিতে হল মৌন মিছিল৷

রবিবাসরীয় সকালে দক্ষিণ কলকাতার জিডি বিড়লার অভিভাবক ও অভিভাবিকারা একটি মৌন মিছিল করেন৷ ব্যানার হাতে তাদের সেই মিছিল স্কুলের গেট থেকে শুরু হয়৷ রানিকুঠি মোড় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয় মিছিল। অভিভাবকদের হাতের ব্যানারে লেখা ছিল, জি ডি বিড়লা স্কুলের কৃতী ছাত্রীর অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত৷

আরও পড়ুন: বাঁকুড়া সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার বিজেপি নেতা

এদিকে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির কৃতী ছাত্রী কৃত্তিকা পালের মৃত্যু রহস্য এখনও অজানা৷ যদিও ময়না তদন্ত রিপোর্ট বলছে শ্বাস রোধ হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে৷ তবে কেন কৃত্তিকা নিজেকে এইভাবে শেষ করল সে উত্তর এখনও মেলেনি৷ প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে ওই ছাত্রী বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিল৷ তার লেখা সুইসাইড নোট থেকেও তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: সন্দেশখালিতে সবকিছু ‘হ্যান্ডেল্ড’ রয়েছে: নুসরত

গত শুক্রবার স্কুলের শৌচালয় থেকে কৃত্তিকার অচৈতন্য দেহ উদ্ধার হয়৷ তার বাঁ হাত কাটা, মুখ ঢাকা ছিল প্লাসটিকে৷ যাদবপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা৷ ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তিন পাতার একটি সুইসাইড নোট ও রক্তমাখা ব্লেড উদ্ধার করে৷ সুইসাইড নোট মানসিক অবসাদ, বাড়িতে অশান্তির উল্লেখ রয়েছে৷ নোটের এক জায়গায় লেখা রয়েছে, মা আর বাবা তোমাদের বলছি, যেটা বোঝো না, তাতে নাক না গলানোই ভালো৷ এছাড়া তিন মাস ঘুমোতে না পারা, ভয়ানক স্মৃতির কথা লেখা রয়েছে৷ তবে তার এই লেখা ঠিক কাকে বার্তা দিতে চেয়েছে, তা জানতেই তদন্তকারীরা এখন মরিয়া৷

স্কুলে ছাত্রী মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌছায় কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি, ডিসি সাউথ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্তারা৷ ছিলেন চার সদস্যের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল ও হোমিসাইড শাখা৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প