হারারে: যদি আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে সাসপেন্ড করে এবং টিম ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তবে একজন সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী হিসেবে আপামোর ভারতবাসীর মানসিক অবস্থা কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়। তবে একজন ক্রিকেটারের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতিটা কতটা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে তা অনুধাবন করা একজন অনুরাগীর পক্ষে সম্ভব নয়। নির্বাচকদের কাছ থেকে উপেক্ষিত হয়ে আম্বাতি রায়ডুর অভিমানে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তই বুঝিয়ে দেয় খেলাটাকে নিয়ে কতটা আবেগ কাজ করে একজন ক্রিকেটারের। সেখানে দেশের বর্তমান ও উঠতি ক্রিকেটাররা যদি হঠাৎ করে জানতে পারেন তাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা আর সম্ভব নয়, তবে বিষয়টা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়াতে পারে তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল জিম্বাবোয়ের তারকা অল-রাউন্ডার সিকন্দর রাজার কথায়।

সরকারি হস্তক্ষেপ এড়িয়ে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ক্রিকেট প্রশাসক বোর্ড গঠনে ব্যর্থ হয়েছে জিম্বাবোয়ে। এই অপরাধের শাস্তিস্বরূপ জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট বোর্ডের পূর্ণ সদস্যপদ খারিজ করেছে আইসিসি। আর্থিক অনুদান বন্ধের পাশাপাশি জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় প্রতিবন্ধকতাও জারি করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল। ফলে ও-দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা যেমন হঠাৎ করে বেকার হয়ে পড়লেন, ঠিক তেমনই উঠতি ক্রিকেটারদেরও দিশেহারা হয়ে পড়া স্বাভাবিক। আর যাই হোক, শিক্ষানবিশ ক্রিকেটাররা প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখেন দেশের জার্সি গায়ে চাপানোর।

সিকন্দর রাজা স্পষ্ট জানালেন যে, আইসিসির সিদ্ধান্তে তাঁরা অত্যন্ত হতাশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। রাজা বলেন, ‘আইসিসির এমন শাস্তি ঘোষণার পর থেকেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা মুষঢ়ে পড়েছে। কেউই বুঝে উঠতে পারছে না কি হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াবে।সবার মনের অবস্থা ঠিক সেইরকম, যেমনটা গতবছর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে হেরে বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া হওয়ার পর হয়েছিল। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা সবাই ব্যথিত। সবাই অত্যন্ত হতাশ। এই ধাক্কাটা সামলে ওঠা কঠিন। এভাবেই কি আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে? শুধু একজন ক্রিকেটারের নয়, গোটা একটা দেশের আবেগ, স্বপ্ন সব একসঙ্গে ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে? আমি নিশ্চিত আমার সতীর্থরাও এই কথাই ভাবছি যে, এবার আমাদের ভবিষ্যৎ কি? ক্রিকেট ছেড়ে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? এখান থেকে ফিরে যাওয়ার কি কোনও রাস্তা আছে?

সিকন্দর আরও বলেন, ‘আমরা জানি না কীভাবে সমাধান সূত্র বেরোবে। আমাদের বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা থেকে নির্বাসিত করা হলো। তবে কত দিনের জন্য সেটা বলা হয়নি। অন্তত দু’বছরের নির্বাসন মানে দলের অনেকের কেরিয়ার এখানেই শেষ। আমি জানি না পরিস্থিতি ঠিক কতটা গুরুতর।তবে কোনও একজনের বা কোনও একটা বোর্ডের ভুলের জন্য একটা দেশের ক্রিকেট খেলা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি সঠিক? আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে গোটা জাতির ক্রিকেট খেলার অনুপ্রেরণা হারিয়ে যাবে। এই অধিকার কি কারও আছে? আমি জানি না এমনটা করা সম্ভব কি না। তবে আমাদের সঙ্গে ঠিক সেটাই হলো।

বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের পাশাপাশি জিম্বাবোয়ের খেলার কথা ছিল আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-২০ কোয়ালিফায়ারে। সংক্ষিপ্ত সিরিজ খেলতে ভারতে আসারও কথা ছিল সিকন্দর রাজাদের। আইসিসির শাস্তির পর সেই সব এখন বিশবাঁও জলে। ক্রিকেট ছেড়ে তাঁদের বিকল্প পেশা কি হতে পারে তা নিয়ে আপাতত দুশ্চিন্তায় সিকন্দররা। নিজে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও হাতে তুলে নিয়েছিলেন ব্যাট। তবে কি পছন্দের বাইশগজ থেকে ফিরে যেতে হবে পুরনো ঠিকানায়? এ-প্রসঙ্গে রাজা বলেন, ‘আমি জানি না এরপর কি হবে। ক্লাব ক্রিকেট, নাকি আর ক্রিকেটটাই নয়। তবে কি সব কিটসগুলো পুড়িয়ে ফেলে নতুন চাকরির খোঁজ করতে হবে আমাদের? আইসিসি ছাড়া এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া আপাতত সম্ভব নয় আর কারও পক্ষে।