নয়াদিল্লি: তেত্রিশ কোটি দেবতার একেক জনের একেক রকমের বেশ। তবে এর মধ্যে শিব ঠাকুরের পোশাক কিন্তু বেশ ‘ইউনিক’। বাঘছালকে পোশাক হিসেবে পরতে দেখা যায় একমাত্র তাঁকেই। মাথায় জটা, জটায় সাপ আর পরনে বাঘছালই অন্যান্যদের থেকে আলাদা করে দেয় শিব ঠাকুরকে। কিন্তু, এত বেশ থাকতে হঠাৎ বাঘছাল পরতে গেলেন কেন তিনি? এর পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

আরও পড়ুন: দুপুর ১টা বাজলেই এই মন্দিরে গভীর সমুদ্র থেকে জেগে ওঠেন মহাদেব!

শিব পুরাণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একসময় কোনও পোশাক ছাড়াই জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন শিব। জটাজুটধারী ওই পোশাক বিহীন ব্যক্তিকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন সেখানকার সাধুসন্তরা। পরিবার নিয়েই সেই জঙ্গলে থাকতেন তাঁরা। কিছুদিন পরেই দেখা গেল, শিব ঠাকুরের দিকে আকৃষ্ট হতে শুরু করেছেন ওইসব সাধুসন্তদের স্ত্রী’রা। যদিও সেদিকে এতটুকুও দৃষ্টিপাত করতেন না শিব। কিন্তু ক্রমশ মাথাব্যাথা বাড়ছিল সাধুসন্তদের। তাই দেবতা না জেনেই শিব ঠাকুরকে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: শহরের এই চার্চে যুদ্ধের দেবতার উপাসনা হয়

শিবের যাওয়ার রাস্তায় জঙ্গলের মধ্যে একটা গর্ত খুঁড়েছিলেন তাঁরা। সেখানে রেখে দিয়েছিলেন একটি বাঘকে। এরপর সেই পথেই আসেন শিব। মুহূর্তের মধ্যে মেরে ফেলেন বাঘটিকে। অঙ্গে পরে নেন ওই বাঘছাল। আর এভাবেই এই বাঘছাল প্রতীকি হয়ে ওঠে। পাশবিক শক্তির বিরুদ্ধে দৈবশক্তির জয়েরই প্রতীক এই বাঘছাল। তিনি বুঝিয়ে দেন, এভাবেই যদি কখনও পাশবিক শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায় তাহলে দৈবশক্তি তাকে ভেঙে চুরমার করে দেবে।

আরও পড়ূন: রামায়ণকে মনে রেখে পক প্রণালীতে হচ্ছে হনুমান সেতু

সঙ্গে সঙ্গে সাধুরা বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি কোনও সাধারণ সাধু নন। বুঝতে পেরেই পায়ে পড়ে যান তাঁরা। তাঁকে পুজো করতে শুরু করেন। এরপর থেকেই শিবের অঙ্গে এই বাঘছাল। দৈবশক্তির জয় বুঝিয়ে দিতেই এটা অঙ্গে ধারণ করেন তিনি।