জয়পুর: হিন্দুধর্মে হনুমানজির ভক্তের অভাব নেই। বহু মানুষই প্রত্যেকদিন বজরংবলীর পূজা করেন মন্দিরে গিয়ে বজরংবলীর পুজো ভক্তরা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় হনুমানজীর মূর্তি হয় অথবা কমলা রঙের।

তবে অনেকেই জানেন না জয়পুরে এমন এক হনুমানজির মন্দির আছে যেখানে মূর্তিটি কালো রংয়ের। আর সেই মন্দির প্রত্যেকদিন হাজার হাজার মানুষ দর্শন করেন। বিশ্বাস করা হয় সেই মন্দিরে গেলে নাকি এক অদ্ভুত শক্তি পাওয়া যায়, আর মনেও শান্তি পাওয়া যায়। সেই আশাতেই ভক্তরা সেই কালো রঙয়ের হনুমানজির মন্দিরে।

১০০০ বছর আগেই হনুমানজীর মন্দির তৈরি হয়েছিল কিন্তু এই হনুমানজীর মূর্তি কালো কেন তার পিছনে এক গল্প আছে।

জানা যায়, হনুমানজির গুরু ছিলেন সূর্য দেবতা। একবার হনুমানজি সূর্য দেবতা কে গিয়ে বলেন আমি গুরুদক্ষিণ দিতে চাই। কি হতে পারে সেই গুরুদক্ষিণা? উত্তরে সূর্যদেবতা বলেন আমার ছেলে শনি আমার কোন কথা শোনে না। তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে এনে দাও। এই শুনেই হনুমানজি ছোটেন শনি দেবতাকে খুঁজতে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে তাকে ফিরিয়ে এনে দেন গুরু সূর্যের কাছে।

গুরুর প্রতি এই ভালোবাসা দেখে সূর্য দেবতা অত্যন্ত তুষ্ট হন। তিনি বলেন তাঁকে পূজা করার আগে হনুমানকে পুজো করতে হবে। তবেই তিনি ভক্তদের পুজো নেবেন। এরপরই হনুমানজি তার অঙ্গে সে কালো রং ধারণ করেন।

মনে করা হয় এই মন্দিরের সঙ্গে হনুমানজির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। হাজার বছর আগে কলকাতা থেকে শিল্পীদের নিয়ে গিয়ে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। পুষ্প নক্ষত্র মেনে এই মন্দিরের নির্মাণ হয়েছে।

রাজস্থানের জয়পুর এ রয়েছে সেই মন্দির। বিপাশা বসু, শিল্পা শেঠি’র মত বলিউড স্টার এরা বিভিন্ন সময়ে এই মন্দির দর্শন করেছেন। এছাড়াও প্রত্যেকদিন ভক্তের সমাগম হয়। সেখানে এটি একটি অন্যতম পর্যটন স্থল। জয়পুরের বিখ্যাত হাওয়া মহলের পাশেই রয়েছে এই মন্দির।