সিডনি:  প্রবল ভারী বৃষ্টিপাত। যা কিনা গত ৩০ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি হয়ে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে। যা সে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই ব্যাখ্যা করছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু তাই নয়, সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতও বটেও। লাগাতার প্রবল ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ইতিমধ্যে সেখানে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক রাস্তাও। বন্যার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। নিরাপদ জায়গার খোঁজে বহু মানুষ।

সে দেশের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, গত চারদিনে সেখানে ৩৯১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার ফলে আকস্মিক বন্যার মতো পরিস্থিতি আরও তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে বলে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের কবলে পড়ে প্রায় এক লাখ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

তবে প্রবল এই বৃষ্টিপাতের কারণে নিভে গিয়েছে গত মাস থেকে জ্বলতে থাকা নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের দুটি বড় দাবানল। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সোলহ্যাভেন শহরের কাছে কারোয়ান দাবানল গত ৭৪ দিন ধরে জ্বলেছে। এতে পুড়ে গেছে প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর এলাকার বনভূমি ও ৩১২টি বাড়ি। এছাড়া সিডনির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গোসপার পার্বত্য দাবানল এতটাই বড় যে তা নেভানো সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে এই দাবানলটি জ্বলছিল। এই দুটি দাবানলই নিভে গিয়েছে প্রবল এই বৃষ্টিপাতের কারণে। ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি। কিন্তু নতুন করে ভারী বর্ষণ চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সে দেশের প্রশাসনিক আধিকারিকদের।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটারোলোজি (বিওএম) সতর্ক করে বলেছে, দাবানল কবলিত এলাকায় বন্যা আসতে পারে। এছাড়া দ্রুত গতির জল বিপুল পরিমাণ আবর্জনা বয়ে নিয়ে আসতে পারে। বড় দুটি দাবানল নিভে গেলেও নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে এখনও জ্বলছে ৩১টি দাবানল। তবে এর কোনওটিই বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

গত কয়েক বছর ধরে তীব্র খরায় ভুগেছে নিউ সাউথ ওয়েলস। যার ফলে তীব্র জল সংকটে ভুগতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যটি। তবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে জলের অভাব পূরণ হতে যাচ্ছে। সিডনির জলের চাহিদার বেশিরভাগই আসে ওয়ারাগাম্বা বাঁধ থেকে। বৃষ্টিপাতে বাঁধটির ৭০ শতাংশ এরইমধ্যে পূরণ হয়ে গিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।