নয়াদিল্লি: রাহুল গান্ধীর উপর ভরসা করে ডুবেছে কংগ্রেস৷ দলের সেনাপতির উপর আস্থা রেখে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারকে বাজি রেখেছিলেন নভজ্যোত সিং সিধু৷ বৃহস্পতিবারের ফলপ্রকাশের পর তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে৷

ভরা জনসভায় নভজ্যোত সিং সিধু বুক ঠুকে বলেছিলেন, আমেঠিতে রাহুল গান্ধী হারলে তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন৷ বৃহস্পতিবারের ফল প্রকাশের পর আমেঠির রেজাল্ট সবার জানা৷ এরপর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা সিধুকে তাঁর প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেন৷ ট্যুইটারে তো এই নিয়ে ট্রেন্ডও শুরু হয়ে গিয়েছে৷ অনেকে তাতে মজাদার কমেন্ট করেছেন৷ কেউ কেউ লেখেন, আরে কংগ্রেসও তো চায় সিধু রাজনীতি ছেড়ে দিক৷ প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দেখাক পাজি৷ এখন দেখার সিধু নিজের প্রতিশ্রুতি রাখেন কিনা৷

এবারের লোকসভা নির্বাচন সব হিসেব নিকেষ বদলে দিয়েছে৷ মোদী ঝড়ে বেসামাল বিরোধীরা৷ জোট বেঁধেও খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে হয়েছে৷ রাহুল গান্ধীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকেও শেষ পর্যন্ত স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যেতে হয়েছে৷ খোয়াতে হয়েছে পারিবারিক খাসতালুক আমেঠি৷ ওয়ানাড় থেকে না দাঁড়ালে এবারের মতো পার্লামেন্টে যাওয়ার রাস্তা হয়তো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল রাহুলের কাছে৷

অপরদিকে সিধুও পড়েছেন এখন মহাফাঁপড়ে৷ রাহুলের উপর ভরসা রাখার মাশুল হিসাবে রাজনীতি থেকে বিদায় তিনি নেবেন কিনা তা সময় বলবে৷ তবে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে তাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং৷ মন্ত্রিসভায় অমরিন্দর সিংয়ের পয়লা নম্বর অপছন্দের লোক এখন একজনই৷ নভোজ্যোত সিং সিধু৷

অমরিন্দরের মতে, রাজ্যে কংগ্রেসের ফল আরও ভালো হতে পারত৷ কিন্তু সিধুর ‘ইমরান প্রেম’ তাতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়৷ কর্তারপুর করিডরের শিলান্যাসে গিয়ে পাকিস্তানের প্রশংসায় যেভাবে তিনি পঞ্চমুখ হন তা শহরাঞ্চলের একটা বড় অংশের মানুষ মেনে নিতে পারে৷ তার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে৷ রাজ্যে ১৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস অন্তত ১০টি আসনে জয়ের আশা দেখেছিল৷ কিন্তু জয় এসেছে মাত্র ৮টি আসনে৷ এর জন্য সিধুকেই দায়ী মনে করছেন অমরিন্দর৷ এমনটাই কংগ্রেস সূত্রে খবর৷

তাই দলের মঙ্গলের জন্য সিধুকে মন্ত্রিসভা থেকে ছাঁটাই করতে উঠেপড়ে লেগেছেন অমরিন্দর সিং৷ কলকাঠিও নাড়তে শুরু করেছেন৷ সূত্রের খবর, দিল্লিতে দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাদের কাছ থেকে একবার সবুজ সঙ্কেত পেলেই সিধুর মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় হয়ে দাঁড়াবে স্রেফ সময়ের অপেক্ষা৷