স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। তাহলে তিনি নন্দীগ্রামে রেলপ্রকল্প চালু করতে পারেনি কেন? কারণ এটা হচ্ছে ওর (মমতা) স্ট্র‍্যাটেজি। শুধুই ধোঁকাবাজি কথাবার্তা। কে যাবে আর কে থাকবে সেটা বলবে জনতা-জনার্দন। ভোটে প্রত্যেক মানুষ বলে দেবে তার মনের কথা কী! এভাবেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ নস্কর৷

বুধবার প্রচারে বেরিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘মানুষ কতখানি গোপনে কেঁদেছিল, আজ তারা প্রকাশ্যে বলে দিয়েছে। তাদের ইশারা, ইঙ্গিত, চোখ-সব বলে দিয়েছে তারা কি বলতে চাইছে।’’ এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীকে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘এখন উনি কীর্তন গাইছেন। রামনবমীর আসরে গিয়ে উনি (দিব্যেন্দু অধিকারী) রাম পুজো করা শিখেছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে ওনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। এইরকম সুমতি যদি বিগত দিনগুলোতে হত তাহলে অত্যন্ত নন্দীগ্রাম-সহ এই জেলার মানুষের উপকার হত। কিন্তু মানুষ তাদের কথা জানিয়ে দিয়েছে।’’

ময়নার বাগচায় অশান্তি প্রসঙ্গে প্রার্থী বলেন, ‘‘ময়নার বাগচায় অশান্তি করছে তৃণমূল। এখানে ৫০০ ভোটও পাবে না তৃণমূল। বাগচায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে দিয়েছে। মানুষের বাড়িতে অস্ত্র ঢুকিয়ে দিয়ে মামলা রুজু করছে পুলিশ। এটা পুরোপুরি সন্ত্রাস। দাউদকে ধরতে এত পুলিশ যায়নি। সেই লাদেনকে ধরতে আমেরিকা সরকার এত পুলিশ পাঠায়নি। গোটা গ্রামটা (বাগচা) পুলিশ দিয়ে সন্ত্রাসে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’

তাঁর কথায়, ‘‘বাইরে থেকে সমাজবিরোধীদের এনে তাদের খাঁকি পোশাক পরিয়ে ও একটা বন্দুক ধরিয়ে দিয়ে, কারোর হাতে আবার লাঠি ধরিয়ে দিয়ে ও হাওয়াই চপ্পল পায়ে দিয়ে মোহড়া দেওয়া হচ্ছে। এটা কি চমকানো হচ্ছে। এই চমকানো পশ্চিমবাংলার মানুষ দেখে নিয়েছে। তাই এখন তারা জবাব দিতে শিখেছেন। তার জন্য আমরা কেন্দ্রের কাছে বারবার আবেদন করেছি যে, প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হোক। তখন বিদায় কে নেয় দেখা যাবে৷’’

এদিন তিনি দিনভর গ্রামে ঘুরে ভোট প্রচার ও জনসংযোগ করলেন৷ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়া শীতলা মন্দিরে পুজো দিয়ে ভোটপ্রচার শুরু করেন তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ নস্কর। তারপর কর্মীদের নিয়ে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়া, রেয়াপাড়া, খোদামবাড়ি, মহাগ্রাম, ভীমবাজার, বুড়ির বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোট প্রচার ও জনসংযোগ করেন৷ দুপুরে বিরুলিয়ায় এক কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজন করেন। মেনু ছিল পুরোপুরি নিরামিষ।