সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ঃ  বিড়লা পরিবার শুধু যে মহাত্মা গান্ধী এবং কংগ্রেসের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এমন নয়, লালা লাজপত রায়, মদনমোহন মালব্য এবং হিন্দু মহাসভারও পৃষ্ঠপোষকতা করতেন৷ গান্ধীজি ও সর্দার প্যাটেলের মতো শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বিড়লাদের সম্পর্ক ছিল নিবিড়৷ এমনকী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী করতেও চেয়েছিলেন এই ব্যবসায়ী পরিবারের প্রতিনিধিরা৷

১৯৩০-এর দশক থেকেই মাড়োয়ারি ব্যবসাদারদের সঙ্গে হিন্দু মহাসভার যোগাযোগ বাড়তে থাকে৷ তার কারণ, ওই দশক থেকেই ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু-র মতো বাম ও সমাজতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন নেতাদের উত্থান ঘটতে দেখা যায়৷ এই সময় পদ্মনাথ জৈন নামে এক মাড়োয়ারি বাংলায় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সম্পাদক হন৷ ১৯৩৯ সালে কলকাতায় বীর সাভারকারের সভাপতিত্বে ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর সারা ভারত হিন্দু মহাসভার বার্ষিক অধিবেশন হয়৷

সেই সময় বাংলায় হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যিনি কিছুদিনের মধ্যেই সর্বভারতীয় সভাপতি হন৷ ওই সময় ঘনশ্যামদাসের বড় ভাই যুগলকিশোর বিড়লা, বদ্রিদাস গোয়েঙ্কা, বংশীধর জালান সহ আরও কিছু মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী কলকাতায় মহাসভার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন৷ ওই সময় মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের এই পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বঞ্চিত হয়নি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-ও (আরএসএস)৷ কলকাতায় বিড়লাদের শিল্প বিদ্যালয়ে এদের কার্যালয় ছিল৷

এছাড়া ১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার ঠিক পরেই, ৫ জুন বিএম বিড়লা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন৷ যদিও বাংলা ভাগের মাধ্যমে সেদিন স্বাধীনতা আসছিল ৷ নিন্দুকদের মতে, দেশভাগজনিত কারণে যখন বহু বাঙালি দুর্ভাবনা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল তখন রীতিমতো খুশি হয়ে উঠেছিল এই মাড়োয়ারি গোষ্ঠী৷ যদিও তাদের খুশির মূল কারণ ছিল বাপুজির নেতৃত্বে স্বাধীনতালাভ৷ পশ্চিমবঙ্গের আইনসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য বিএম বিড়লা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কাছে অনুরোধ জানান৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দু মহাসভার সভাপতি ছিলেন ঠিকই, আবার কংগ্রেসের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হননি৷ সে কারণেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কাছে বিএম বিড়লা এমন অনুরোধ জানাতে পেরেছিলেন৷

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পর যখন প্রথম মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় সেই সময় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রথমে শ্যামাপ্রসাদকে তাঁর মন্ত্রিসভায় নিতে রাজি হননি৷ মহাত্মা গান্ধী নির্দেশ এবং সর্দার প্যাটেলের আরজিতে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হন ৷ অতঃপর শ্যামাপ্রসাদ হন স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী৷

তথ্য ঋণ- বাংলা বিভাজনের রাজনীতি অর্থনীতি : সুনীতিকুমার ঘোষ