file pic

প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: জুটমিল বন্ধের নোটিশকে কেন্দ্র করে তুলকালাম উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে। ওয়েভারলি জুটমিল ন্ধের নোটিশ ঘিরে গন্ডগোলের সূত্রপাত। নোটিশ দেখে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এরপর জুটমিলের ভিতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এমনকী মিল কর্তৃপক্ষের দুটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আতঙ্কে মিল ছেড়ে পালিয়ে যান আধিকারিকরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ জানুয়ারি। শ্রমিক-মালিক বিরোধের জেরে চলতি বছরের ওই দিন কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। অভিযোগ, ওয়েভারলি জুটমিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন ঠিকমত দিচ্ছে না। একইসঙ্গে পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকাও শ্রমিকরা জরুরি প্রয়োজনে তুলতে পারছেন না।

শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, তাঁদের বেতন থেকে পিএফের টাকা প্রত্যেক মাসে কেটে নেওয়া হলেও সরকারের ঘরে বা পিএফ দফতরে শ্রমিকদের টাকা জমা পড়ছে না। সেই টাকা আত্মসাৎ করেছে মালিকপক্ষ, এমনই অভিযোগ শ্রমিকদের।

এদিকে ৩০ শে জানুয়ারির জটিলতা কাটিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে মালিকপক্ষ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় চলতি মাসের ১৭ তারিখ কারখানা খুলবে। একইসঙ্গে এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতনও মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় মালিকপক্ষের তরফে।

সেই অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্যামনগরের ওয়েভারলি জুটমিলে মেন্টেনেন্সের কাজ শুরু হয়। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি কারখানার সমস্ত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দেওয়া হবে এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি থেকে এই কারখানায় পুরো মাত্রায় উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এদিকে এই কারখানার শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ২০ ফেব্রুয়ারি বেতনের টাকা ঢোকেনি। ক্ষিপ্ত শ্রমিকরা দল বেঁধে শুক্রবার সকালে কারখানার গেটে কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন কারখানা খোলার পরিবর্তে ফের নতুন করে কারখানায় সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ।

এরপরই ক্ষিপ্ত শ্রমিকরা কারখানার ভিতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং কর্তৃপক্ষের দুই আধিকারিকের ব্যাক্তিগত গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কারখানায় চরম উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় জগদ্দল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

পুলিশের সামনেই শ্রমিকরা কারখানার গেটের বাইরে ঘোষপাড়া রোডে বেশ কিছুক্ষণ অবরোধ করেন। পরে পুলিশ শ্রমিকদের পথ অবরোধ তুলে দেয়। এদিকে শুক্রবার সকালে কারখানার গেটে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ জারি করে উত্তেজনার কথা ভেবেই মালিক পক্ষের লোকজন কারখানা থেকে বেপাত্তা হয়ে যায়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের নোটিশে দাবি করেছে, ‘জুটমিলের অবস্থা ভাল নয়। শ্রমিকরা কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ঠিকমত অংশ নেন না । আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় কারখানার উৎপাদন শুরু করা যায়নি।’ যদিও মালিকপক্ষের ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রমিকরা।

এদিকে ওয়েভারলি জুটমিল বন্ধের ঘটনায় বারাকপুরের বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উমা শঙ্কর সিংয়ের দাবি, কেন্দ্রের জুট নীতিতে দেশজুড়ে সব জুটমিলগুলি এখন লাভের মুখ দেখছে। আর্থিক ক্ষতির কারণ নেই। বড়সড় চক্রান্ত করে জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওই বিজেপি নেতার। একইসঙ্গে ওয়েভারলি জুটমিলে বেশিরভাগ শ্রমিক বিজেপি সমর্থক বলেই এই মিলটি ইচ্ছে করে বন্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

অন্যদিকে ভাটপাড়ার তৃণমূল নেতা সোমনাথ শ্যামের দাবি, জুটমিলের সমস্যা মেটাতে তাঁরা উদ্যোগী । মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কারখানা খোলার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে ওয়েভারলি জুটমিলে যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়িয়ে পড়ে সেই জন্য কারখানার গেটে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।