তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সম্প্রতি সৌমিত্র জায়া সুজাতা খাঁ অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরার স্ত্রী প্রীতিকণা সাঁতরাকে ‘চাইনিজ প্রোডাক্ট’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এপ্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক সাঁতরা বলেন, উনি এসব কথা বলে, মিডিয়ার প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি বাড়ির কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে দলীয় নেতা, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাড়ির লোক থেকে আত্মীয় স্বজন সবাই প্রচারে অংশ নেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রার্থী আরও বলেন, ‘বিরোধীদের কুৎসা, অপপ্রচারে আমরা কান দিই না। বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ এর নাম না করে তিনি ‘পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়’ বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য আওড়ে বলেন, কারো যদি মস্তিষ্ক বিকৃতি হয় তার নিয়ে কিছু না বলাই ভালো।’’

শ্যামল বাবুর মতে, স্বাভাবিকভাবেই আমার দাদারা, স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন সবাই নিজেদের মতো করে আমার হয়ে প্রচার করছেন। বড় এলাকা আমার একার পক্ষে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব নয়। এধরণের বক্তব্য ‘অবান্তর’ দাবি করেন তিনি৷ বলেন, প্রয়োজনে উনিও ওনার সমস্ত আত্মীয় স্বজনকে প্রচারের কাজে
নামাতে পারেন। এবিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকতেই পারেনা বলে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন।

ফের তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরার মানবিক দিকটির সাক্ষী থাকল বাঁকুড়া। অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়া এক মহিলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন তিনি। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা মঙ্গলবার কোতুলপুর ব্লক এলাকার বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলেন।

প্রচারের সময় জয়পুরের চাতরা মোড়ে দেখেন রাস্তার উপর মধ্যবয়সী এক মহিলা পড়ে রয়েছেন। তৎক্ষণাৎ সব কাজ ফেলে গাড়ি থামিয়ে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিজে হাত লাগিয়ে অসুস্থ ওই মহিলাকে রাস্তা থেকে তুলে আনেন। খবর দেওয়া হয় চিকিৎসককে। পরে অসুস্থ ওই মহিলাকে নিজের বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করে তবেই নির্বাচনী প্রচারে রওনা হন তিনি। তৃণমূল প্রার্থীর এই ভূমিকায় খুশি জয়পুরের মানুষ।

তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা এদিন স্থানীয় গঙ্গাধর জিউর মন্দিরে পুজো দিয়ে কোতুলপুর ব্লক এলাকার লেগো, দেশড়া-কোয়ালপাড়া ও লাউগ্রাম সহ বিভিন্ন গ্রামে কখনও পায়ে হেঁটে, আবার কখনও হুড খোলা গাড়িতে চেপে প্রচার চালান। স্বাভাবিকভাবেই ‘ঘরের ছেলে’ শ্যামল সাঁতরাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। তাঁকে স্বাগত জানাতে হাতে ফুলের মালা নিয়ে অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছেন।

অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন, সমবয়সী ও বয়সে ছোটোদের সঙ্গে করমর্দন করে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়পুরের চাতরা মোড়ের ঘটনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা বলেন, ‘‘একজন মানুষ হিসেবে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক কর্তব্য। উনি কোন কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি আমার নজরে আসায় আমি আমার সাধ্যমতো ওনার পাশে দাঁড়িয়েছি।’’