নয়াদিল্লি: ভোট দিলেন দেশের ‘প্রথম’ ভোটার শ্যাম সরণ নেগি। ১৯৫২ সালে যে বুথে প্রথম তিনি ভোট দিয়েছিলেন, রবিবার সেই বুথে গিয়েই ভোট দিলেন তিনি। এদিন নেগিকে রেড কার্পেটে অভ্যর্থনা জানিয়ে স্বাগত জানান হয় কল্পার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে। বুথ থেকে বেরিয়ে ১০২ বছরের ‘যুবক’ নেগির বার্তা, ‘ভোট দিয়ে সৎ এবং সক্রিয় সাংসদ নির্বাচন করুন’।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় ভোট দিলেন তিনি। এই একটি দিনের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকেন দেশের ‘প্রথম’ ভোটার শ্যাম সরণ নেগি। হিমালচল প্রদেশের কল্পা গ্রামের বাসিন্দা। জন্ম ১৯১৭ সালের ১ জুলাই। পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

নেগির প্রথম ভোটার হওয়ার পিছনের গল্পটা বলা যাক। দেশের প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে হিমাচলের প্রত্যন্ত পাহাড়ি আদিবাসী এলাকার ভোট ৫ মাসে এগিয়ে আনা হয়। ১৯৫১ সালে অক্টোবরে ভোট হয়। স্কুল শিক্ষক হওয়ায় সে বছর নির্বাচনের কাজ পড়েছিল তার। কিন্তু তার আগেই সকাল ৭টার সময় কিনৌরের কল্পা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে যান তিনি। সেই বুথে প্রথম ভোট দেন তিনি। পরে সমীক্ষা করে জানা যায়, সেই বুথে প্রথম ভোটটি দিয়েছিলেন তিনিই। তখন থেকেই দেশের প্রথম ভোটার হিসেবে পরিচিত হন শ্যাম সরণ নেগি।

এ প্রসঙ্গে নেগি বলেন, “দেশের প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে হিমাচলের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার ভোট ৫ মাসে এগিয়ে আনা হয়। ১৯৫১ সালে অক্টোবরে শুরু হয় ভোট। স্কুল শিক্ষক হওয়ায় সে সময় নির্বাচনের কাজ পড়েছিল। কিন্তু তার আগে সকাল ৭টার সময় কিনৌরের কল্পা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে যাই। সেই বুথে প্রথম ভোটটি আমিই দিয়েছিলাম।”

এই বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৮৯০ সালে। ১৯৫১ সালে এখানে প্রথম ভোট হয়। প্রিসাইডিং অফিসার সহ বুথ কর্মীরাও আপ্লুত দেশের প্রথম ভোটারকে পেয়ে। প্রাথমিক চিকিত্সারও ব্যবস্থা রাখা হয় বুথে এদিন।

নেগি জানান, এ নিয়ে ১৬ টি লোকসভা, ১৩টি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিনি। কল্পা গ্রামের বাসিন্দারা চাইছেন, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও এভাবেই ভোট প্রদান করবেন নেগি। তখন তাঁর বয়স হবে ১০৭ বছর।