ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: মানুষের জন্য কাজ করতে পদ লাগে না। লাগে না কারও ছাড়পত্র। পূর্ব মেদিনীপুরের দেউলিয়াতে ‘দাদার অনুগামী’দের আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ওই অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলাম। কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে আইসোলেশনে থেকে সুস্থ হয়েছি। কোলাঘাট আমায় নতুন জীবন দিয়েছে।’’

এরপরই তিনি বলেন, ‘‘লকডাউন চলাকালীন কোলাঘাট ব্লকের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। দুর্ঘটনায় মৃত অ্যাম্বুল্যান্স চালকের পরিবার ও মৃত একজন রোগীর পরিবারকে সাহায্য করেছি।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমি এসব করে বলি না। বলছি কারণ কিছু ভোট পাখি লকডাউনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। তারা শুধু সজনেগাছি বাজারে সস্তার মাস্ক বিলি করেছে। আমি কোনও রাজনৈতিক দলকে বলছি না। কিছু ব্যক্তি এরকম করেন। এদের থেকে দূরে থাকতে হবে। সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে থাকতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে কারও ছাড়পত্র লাগে না। কোনও পদ লাগে না।’’

শুভেন্দুর বিরোধী শিবির বলে পরিচিত রামনগরের বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা কো-অর্ডিনেটর অখিল গিরির গোষ্ঠীর লোকজনরা। তাঁরা দলে গুরুত্ব পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শুভেন্দুর অনুগামীরা । ‘ভোট পাখি’ বলে আদতে সেই বিরুদ্ধ গোষ্ঠীকেই তিনি কটাক্ষ করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এ প্রসঙ্গে অখিল গিরি বলেন, ‘‘শুভেন্দু দল বিরোধী কাজ করছেন। যেখানে সেখানে বাজে মন্তব্য করছেন। তিনি মনে করছেন তিনি একাই দলের সবকিছু। ওঁর কিছু বলার থাকলে পদ ছেড়ে বলুন।’’

ইদানিং দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে শুভেন্দুর। জেলায় দলীয় কোনও কর্মসূচিতে তাঁকে তেমন দেখা যায় না। তবে নিজের মতো করে জনসংযোগের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সেইসঙ্গে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করে জল্পনা তৈরি করছেন। আবার তাঁর অনুগামীরা দাদার নামে প্রচার করে চলেছেন। এখানে তৃণমূলের কোনও উল্লেখ থাকছে না। এইসব নিয়ে রাজ্য–রাজনীতিতে বিস্তর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এদিনও কোথাও তৃণমূলের প্রতীক বা ব্যানার দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের সাদা টি-শার্টেও লেখা ‘দাদার অনুগামী’। তাঁরাই স্বাগত জানান মন্ত্রীকে। হাজির ছিলেন এলাকার একাধিক তৃণমূল নেতা।

সম্প্রতি, রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী উপস্থিত হয়েছিলেন নিউ দিঘায় মহিলা কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের ভগিনী নিবেদিতার ১৫৩তম জন্মতিথি উদযাপনের একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে নিবেদিতার মূর্তি উন্মোচন করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘”আমি আপনাদের কেন প্রশংসা করছি জানেন। প্রশংসা করছি এই কারণে, একক শক্তিতে কিছু হয় না। একতাই হল শক্তি।”

তারপরই শুভেন্দু বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন, আমি আমি হল সর্বনাশের মূল। আমরা আমরা যারা করে তারাই টিকে থাকে।”শুভেন্দু ওই মন্তব্য কাকে ইঙ্গিত করে করলেন তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।