তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা সত্ত্বেও দেশের কোন বাস স্ট্যান্ডে বাস যাত্রী মায়েদের শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করানোর আলাদা ঘর নেই। ভারতের মধ্যে প্রথম রাজ্য সরকার এই সুবিধাযুক্ত বাস স্ট্যান্ড বিষ্ণুপুরে তৈরি করল। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে নবনির্মিত বাস স্ট্যান্ডের উদ্বোধন করতে এসে এমনই জানালেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বললেন, ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে এসে বিষ্ণুপুরে অত্যাধুনিক মানের বাস স্ট্যান্ড তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুততার সঙ্গে বিষ্ণুপুরে বাস স্ট্যান্ড তৈরি হয় বলে তিনি জানান। এই বাস স্ট্যান্ডে দুগ্ধপোষ্য শিশুদের মায়েদের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এমনকি এখানে টিকিং বুকিং, রাত্রিবাস করার জন্য ‘রেস্ট হাউস’ও থাকছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জুন মাসে পরিবহণ মন্ত্রী নিজে এই বাস স্ট্যান্ডের শিলান্যাস করেছিলেন। তারপর এই বছর পুজোর আগেই নতুন বাস স্ট্যান্ড পেল মল্লরাজাদের এক সময়ের রাজধানী বিষ্ণুপুর। মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নব নির্মিত এই বাস স্ট্যান্ডে তিনটি টার্মিনাস থাকছে। যেখানে ৩৪ টি বাস পার্ক করা যাবে। একই সঙ্গে তিনটি বাস যাত্রী প্রতীক্ষালয় ও বাস শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি হয়েছে। এছাড়াও চারটি সুউচ্চ বাতি স্তম্ভ ও ২০ হাজার লিটার জলধারণ ক্ষমতা যুক্ত পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থাও থাকছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে এক অত্যাধুনিক বাস স্ট্যান্ড পেল মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পঞ্চায়েত দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস, বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক মানস মণ্ডল, বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।