বাসে লেখা থাকে আপনার ব্যবহার আপনার পরিচয়। কিন্তু ২০২১-এ দাঁড়িয়ে যখন টেকনোলজির লজিকে আমরা সবাই নেট বন্দী, তখনো কিছু সুশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কাছে আপনার ব্যবহার নয়, আপনার শিক্ষা নয় আপনি জীবনে কি কাজ করেছেন সেটাও নয় বরং তাদের কাছে আপনার আসল পরিচয় আপনার গায়ের রং কী?

কিন্তু কি আশ্চর্য ! বাড়ির কারো রক্ত যদি দরকার পড়ে, তখন কিন্তু এই ব্যক্তিগুলি দেখেনি না যার শরীর থেকে রক্ত নিচ্ছেন তার গায়ের রং সাদা না কালো। আর যদি বিপদে পড়ে কোন বন্ধু থেকে টাকা ধার নিতে হয় সে ক্ষেত্রে তাদের খেয়াল থাকে না তার গায়ের রং সাদা না কালো। কিন্তু কিছু পার্টিকুলার সময়, যেমন ধরুন কাউকে দেখে সহজে মন্তব্য করতে, বিয়ে করতে,অভিনেতা অভিনেত্রীদের পর্দায় দেখতে গিয়েই তারা চোখে ‘ফর্সা কালো মন্দ ভালো’ র বিপুল ভণ্ড জ্ঞানের ভাণ্ডারে দূরবীন দিয়ে বিচার করতে বসে যায় একজনের চরিত্র থেকে শুরু করে তার কি করা উচিত ছিল, কেন সে করেনি কীভাবে করলে ভালো হতো তার সমস্ত দিক। তবে তাঁদের এই ভুল বিচারে আদতে যে তাঁদের মনের ও শিক্ষার বিচার হয় তা তারা বুঝতে পারে না।

‘সত্য সেলুকাস বিচিত্র এ দেশ !
মা কালীকে দেবী মেনেও,
কালো চেহারায় বিদ্বেষ’

এবার আসা যাক আসল গল্পে। বলিউডের বিপাশা বসু হোক আর টলিউডের শ্রুতি দাস,কেউই ছাড় পাননি,গায়ের রং দিয়ে তাঁদের অভিনয় বিচার করা পন্ডিতদের থেকে। কয়েকমাস আগে থেকে স্টার জলসায় সম্প্রচারিত হচ্ছে, ‘দেশের মাটি’। মাটির টানে নিজের গ্রামে থেকে যাওয়া, অদম্য জেদ,পরিবারের ভালোবাসা, তার সাথে কিয়ান এবং নোয়ার মিষ্টি একটা সম্পর্ক সব নিয়ে ‘দেশের মাটি’ এখন বাঙালির ড্রইংরুমের সন্ধ্যেবেলার অন্যতম সদস্য।

প্রসঙ্গত ‘দেশের মাটি’র নোয়া অর্থাৎ অভিনেত্রী শ্রুতি দাস অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে নাচ এবং গান এর সমান পারদর্শী এবং তার প্রমাণ বারবার পাওয়া গেছে। পরিচালক থেকে প্রোডিউসার সবাই সন্তুষ্ট তাঁর অভিনয় নিয়ে। দর্শকের কাছেও তিনি অতি পরিচিত মুখ। কিন্তু তাও মাঝেমধ্যেই সোস্যাল সাইটে শ্রুতিকে তার গায়ের রং এর জন্য কটাক্ষ করে থাকেন কিছু সকল শিক্ষিত ব্যক্তি। স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথা ছিল শ্রুতির। কিন্তু শ্রুতি এগুলো থেকেই আরো একবার ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র পায়, শক্তি যোগায়।

এই মানুষগুলোকে আরো একহাত নিয়ে শ্রুতি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করলেন এই লেখাটি,

”যা কিছু কালো তাই-ই খারাপ?
যা কিছু খারাপ তাই-ই কালো?
‘সুশিক্ষা’ ‘সুসমাজ’?”

শ্রুতির কথার রেশ ধরেই ,সু শিক্ষা নাকি মনের কোনের অন্ধকার দূর করে। কিন্তু সেই শিক্ষার লাভ কি যা, মানুষকে মানুষের সম্মান দেওয়ার ভালোবাসার আসল মাপকাঠি তাই জানে না। তাই পুঁথিগত বিদ্যা নয়, শিক্ষিত হওয়া উচিত মন থেকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।