নয়াদিল্লি: রাম মন্দির নিবে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নিয়ে জল্পনা দেশ জুড়ে। ভোটের আগেই একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এমনটাই আশা করছেন আনেকে। সেসব বিতর্কের মাঝেই ভারত থেকে যাত্রা শুরু করল রামায়ণ এক্সপ্রেস।

রামের জন্মভূমি অযোধ্যা থেকে সেই ট্রেন সোজা চলে যাবে রাবণের দেশ অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা। রামায়ণে বর্ণিত স্থানগুলি ছুঁয়ে যাবে এই বিশেষ ট্রেন। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্য থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো পর্যন্ত যেতে পারবেন যাত্রীরা। ধর্মীয় ভ্রমণকে উৎসাহিত করাই এই রেল পরিষেবার মূল্য উদ্দেশ্য৷

১৪ই নভেম্বর, বুধবার থেকে যাত্রা শুরু করল সেই রামায়ণ এক্সপ্রেস৷ আসন সংখ্যা ৮০০।

ট্রেনের প্রথম স্টপেজ, উত্তর প্রদেশে রামের জন্মস্থান অযোধ্যায়। তারপর হনুমানগড়ি, রামকোট, কনক ভবন মন্দির ছুঁয়ে ট্রেন যাবে ভরতের তপস্যাস্থল নন্দীগ্রামে। বর্তমান ফইজাবাদের কাছে অবস্থিত নন্দীগ্রামেই বনবাস থেকে রামের ফেরা পর্যন্ত তপস্যা করেছিলেন কৈকেয়ীপুত্র।

যে সব তীর্থস্থানে ট্রেন থামবে, সব জায়গাতেই আইআরসিটিসি–র তরফে তীর্থযাত্রীদের জন্য ধর্মশালায় রাত্রিবাসের ব্যবস্থা থাকছে। তাঁদের সহায়তার জন্য সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন আইআরসিটিসি–র টুর ম্যানেজাররা। তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত এবং মালপত্র পৌঁছে দেওয়া, প্রতিটি স্টপে সাইটসিয়িং–এর দায়িত্বও আইআরসিটিসি–র।

স্টেশন থেকে স্থলপথে যাত্রীদের মন্দিরে পৌঁছতে সহযোগিতা করবে রেল। এমনকি শ্রীলঙ্কায় কেউ যেতে চাইলে চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছনোর ব্যবস্থাও করে দেবে রেল। আপাতত মাসে কতবার ট্রেন চালানো হবে, তা স্থির হয়নি। যাত্রীদের কাছ কেমন সাড়া মেলে, তা দেখার পর সিদ্ধান্ত নেবে ভারতীয় রেল। শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের জন্য পাঁচ রাত ছ’দিনের প্যাকেজও দিচ্ছে আইআরসিটিসি। খরচ পড়বে জন প্রতো ৪৭০০০ টাকা।

ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং ও ট্যুরিজম কর্পোরেশনের এক আধিকারিকের কথায়, শ্রী রামায়ণ এক্সপ্রেসে যাত্রী পিছু ভাড়া ১৫,১২০ টাকা। ১৬ দিনে রামায়ণে বর্ণিত সবকটি স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন যাত্রীরা। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, ট্রেনেই খাবার দেওয়া হবে যাত্রীদের। ধর্মশালায় থাকার ব্যবস্থা থাকবে। যাত্রীদের দ্রষ্টব্যস্থানের মাহাত্ম্য বোঝাবেন আইআরসিটিসি-র ম্যানেজাররা।