নয়াদিল্লি:  গত বছর বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে Anti-Satellite Weapon এর পরীক্ষা চালায় ভারত। এবার প্রজাতন্ত্র দিবসের রাজপথে সেই Anti-Satellite Weapon সিস্টেম বিশ্বের দরবারে প্রদর্শন করবে ভারতীয় সেনা। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতে অতিথি হিসাবে আসছেন ব্রাজিলের প্রধানমন্ত্রী। থাকবেন আরও দেশবিদেশের অতিথিরা।

সবার সামনেই অত্যাধুনিক এই Anti-Satellite Weapon System তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম গর্বের ধানুষ ১৪৫ এমএম ৫২ ক্যালিবার হাউজারসকে সামনে আনা হবে। সম্প্রতি অত্যাধুনিক এই সমরাস্ত্র ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই সমরাস্ত্র।

গত বছর Anti-Satellite Weapon এর পরীক্ষা করা হয়। এরপরেই আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের পরে চতুর্থ দেশ হিসাবে তালিকায় নাম লেখায় ভারত। কিন্তু কী এই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল?

অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল এক ধরনের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নিয়ন্ত্রিত (গাইডেড) ক্ষেপণাস্ত্র, যা দিয়ে মহাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করা যায়। অবিভক্ত সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঠান্ডা যুদ্ধের সময় রাশিয়া এবং আমেরিকা পাল্লা দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা বাড়াচ্ছিল মহাকাশে। সেই সময় দুই দেশই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল নিয়ে গবেষণা শুরু করে ১৯৫৯ সালে আমেরিকা প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে উপগ্রহ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে। তবে সেই ক্ষেপনাস্ত্র আকাশ থেকে ছুড়তে হত।

অন্য দিকে ১৯৬৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফল ভাবে একেবারে মাটি থেকে ছোঁড়া যায় এমন উপগ্রহ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করে। অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য, মহাকাশে নিজের দেশের যে সমস্ত কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে এবং গবেষণামূলক কাজকর্ম চলছে সেগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়া। সেই সঙ্গে মহাকাশ থেকে কোনও শত্রু দেশে আক্রমণ করলে তা যেন মহাকাশেই প্রতিহত করা যায়, তা নিশ্চিত করাই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইলের কাজ। এই মিসাইলের সঙ্গে প্রয়োজনে পরমাণবিক অস্ত্রও যুক্ত করা যায়।

পৃথিবী থেকে ৩১০০ নটিক্যাল মাইল (৫৭৪১ কিমি) পর্যন্ত এলাকাকে লো আর্থ অরবিট বলা হয়। সাধারণত সমস্ত দেশেরই মহাকাশে অবস্থিত সামরিক গবেষণা এবং কার্যকলাপ ওই এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ভারতের তৈরি অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইলও ওই লো আর্থ অরবিটেই সফল ভাবে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করেছে এর আগে। আমেরিকা রাশিয়ার পর চিন তৃতীয় শক্তি হিসাবে ২০০৭ সালে সফল ভাবে ওই প্রযুক্তির ব্যবহার করে। আমেরিকা এবং রাশিয়ার মতো চিনও প্রথম সফল উৎক্ষেপণের পর থেকে অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল প্রযুক্তি আরও উন্নত করে চলেছে। চিনের সাফল্য মহাকাশে ভারতের নিরাপত্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর পর থেকে ভারতও সেই একই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ২০১২ সালের মধ্যেই অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল তৈরির প্রযুক্তি তৈরিতে সক্ষম হন ভারতীয় বৈজ্ঞানিকরা। ২০১৮ সালে ওডিশার সৈকত থেকে ওই মিসাইল সফল ভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

এবার সেই মিসাইল সিস্টেমটি সবার সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।