নিবেদিতা দে, কলকাতা: এবার থেকে প্রতি শুক্রবার নিয়ম করে তৃণমূল ভবনে হাজিরা দেবেন বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং শোভনদেবকে ফোন করে এই নির্দেশ দেন৷ দলীয় নেত্রীর নির্দেশ পেয়ে খুশি পোড়খাওয়া আইএনটিটিইউসি নেতা শোভনদেববাবু৷

মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘ভবনে নানা মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে আসেন৷ একা সুব্রত বক্সির পক্ষে তা সামাল দেওয়া সমস্যা হচ্ছিল না৷ তাই নেত্রী আমাকে যোগ্য মনে করে এই কাজের দায়িত্বে ডেকে পাঠিয়েছেন৷ ’’শোভনদেবের সঙ্গে এই দায়িত্বে রয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও৷ তিনিও জনসংযোগ বাড়ানোর কাজে নিয়ম করে ওইদিন পৌঁছে যাবেন দলীয় ভবনে৷

সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কোর কমিটির বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শোভনদেবকে বার্তা দেন, ট্রেড ইউনিয়নের পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে৷ মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি ছিল, বিধায়ক তথা মন্ত্রী হয়ে এভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে না৷ আর তারপরই মহাজাতি সদনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী জানিয়ে দেন, ট্রেড ইউনিয়নের পদ থেকে তিনি অব্যাহতি নিচ্ছেন৷

তবে উপদেষ্টা হিসেবে আইএনটিটিইউসি-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন৷ শোভনদেববাবুর বক্তব্য থেকে বোঝাই যাচ্ছে, নেত্রীর নির্দেশই তিনি পালন করছেন৷ যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ট্রেড ইউনিয়ন থেকে সরিয়ে দিয়ে কার্যত ডানাই ছাঁটা হল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের৷

কিন্তু এই ডানা ছাঁটার গল্প উড়িয়ে শাসকদলে যে তাঁর গুরুত্বই বাড়ানো হল তা এদিন স্পষ্ট হয়ে যায়৷ দলের এই গুরুদায়িত্ব পেয়ে কী ভাবছেন তিনি? শোভনদেববাবুর মন্তব্য, ‘‘দলের কাজ করব, এর থেকে আনন্দের কিছু নেই৷ আশা করি এবার বিরোধীদের মুখ বন্ধ হবে৷’’ তিনি এও জানান, ‘‘ইউনিয়নের জন্মলগ্ন থেকে আছি, তাই ইউনিয়ন ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না৷৷ আর ইউনিয়নের কাজ করার জন্য কোনও পদের দরকার আছে বলেও মনে করি না৷’’

এখন প্রশ্ন, তবে কি দলীয় দায়িত্ব বাড়তে চলেছে বলেই ট্রেড ইউনিয়নের পদ থেকে তাঁকে সরে আসতে বলেছেন নেত্রী? শোভনদেববাবু জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম থেকেই আমি মমতার সঙ্গে আছি৷ উনি আমার উপর ভরসা করেন৷ তাই দলের দায়িত্ব সঁপেছেন আমাকে৷’’

শোভনদেববাবুর গুরুত্ব বাড়ানো নিয়ে দলীয় সমর্থকদের একাংশের মত হল, এতে তাঁর শিরে সংক্রান্তি হতে পারে৷ কারণ সাংগঠনিক ব্যাপারে নেত্রীর কাছে এবার থেকে তাঁকেই জবাবদিহি করতে হবে৷ তাই যে কোনও সময় নেত্রীর কোপে পড়তে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাংগঠনিক নেতা৷ যদিও এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷

তবে শুধু শোভনদেবই নন, তাঁর সুযোগ্য পুত্র যুব নেতা সায়নদেব চট্টোপাধ্যায়ও প্রতি মঙ্গলবার নিয়ম করে তৃণমূল ভবনে উপস্থিত থাকবেন৷ যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে তিনি এই নির্দেশ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সায়নদেব৷

শাসকদলের সাংগঠনিক শীর্ষস্তরে বাবা-ছেলের মিলিত প্রচেষ্টা কতদূর সফল হয় সেটা সময়ই বলে দেবে৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও