স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মেয়র-মন্ত্রীত্বর পর এবার বিধানসভার ফিশারিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ মঙ্গলবার বিকেলে ফ্যাক্স করে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

গত বছর নভেম্বর মাসে মেয়র ও মন্ত্রী পদ ছাড়ার পর শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ দফতরের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে তাঁকে এই পদে বসানো হলেও একটিও বৈঠকে যোগ দেননি তিনি। সম্প্রতি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে বলেন স্পিকার। সৌজন্য বিনিময় করে শোভন চট্টোপাধ্যায় কথা দেন পরবর্তী বৈঠক থেকে বিধানসভায় আসবেন তিনি। এরপরই আজ, আচমকা ইস্তফাপত্র পাঠান শোভন চট্টোপাধ্যায়৷

যদিও অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন তিনি এখনও কোনও পদত্যাগপত্র পাননি৷ শোভনের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, “নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে ওঁর অনেক আগেই ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল।” এ দিন শোভনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু একাধিকবার ফোন বেজে গেলেও তিনি ফোন ধরেননি।

কয়েকদিন আগেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় মিলি আল আমিন কলেজের অধ্যাপিকা এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন৷ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বৈশাখী শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন৷ সেই বৈঠকেই বৈশাখীর পাশে বসে শোভন বলেছিলেন, আমি তৃণমূলে না ফেরাতেই কি ওকে হেনস্থা করা হচ্ছে? যদিও পরে বৈশাখীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি শিক্ষামন্ত্রী৷

কিন্তু এত সবকিছুর মধ্যেও অধ্যক্ষের ফোনে অনেকেই ভাবছিলেন হয়তো বরফ গলতে পারে। কিন্তু শোভন বুঝিয়ে দিলেন তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। তাঁর এই সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট তিনি তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রক্রিয়ায় আরও কয়েকধাপ এগিয়ে গেলেন৷