স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতারা৷ অর্জুন সিং, শুভেন্দু অধিকারীর পর এবার সেই অভিযোগ করলেন মমতার একসময়ের বিশ্বস্ত সৈনিক শোভন চট্টোপাধ্যায়৷

মঙ্গলবার বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড় থেকে বেলেঘাটা বরফ কল পর্যন্ত বিজেপির পদযাত্রায় সামিল হলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র কখনও হাঁটলেন, কখনও উঠলেন হুড খোলা গাড়িতে৷ কখনও আবার বিজেপি কর্মীর স্কুটির পিছনে সওয়ার হলেন শোভন৷ সঙ্গে ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই সভা থেকেই তৃণমূলনেত্রীকে আক্রমণ করেন শোভন৷ শোভন বলেন, রক্তের সম্পর্ককে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যাঁরা ঘাম,রক্ত, শ্রম দিয়ে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁদেরকেই ধাক্কা মেরে বের করে দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নির্বাচনে মানুষই তৃণমূল কংগ্রেসকে ধাক্কা দিয়ে এর জবাব দেবে৷’ শোভনের তোপ যে আদতে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

রবিবার কুলতলির সভায় শুভেন্দু অধিকারী–সহ বঙ্গ বিজেপি–র একাধিক নেতাকে চেনা সুরে আক্রমণ করেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইদিন অভিষেকের তোপের নিশানায় ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও৷ তিনি বলেছিলেন, ‘‌তিন বছর পর ঘুম ভেঙেছে। ডায়মন্ড হারবারে মিটিং করে বলেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি জিতিয়েছি। সে মাঠে নেমেছিল বলে আমি নাকি ৭০ হাজার ভোটে জিতেছিলাম। আর বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল বলে সাড়ে ৩ লাখ ভোটে জিতেছি। সে নাকি আমাকে জিতিয়েছে!‌’‌

শোভনের প্রতি তোপ দেগে অভিষেক আরও বলেছিলেন, ‘‌আপনি যত বেশি মাঠে নামবেন তত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গল। আপনাকে মানুষ যত দেখবে তত তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বাড়বে।’‌ নারদ কেলেঙ্কারির বিতর্কিত ভিডিও–তে দেখা গিয়েছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মুখও। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, ‘‌এক হাতে সিগারেট আর এক হাতে টাওয়াল মুড়ি দিয়ে টাকা নিয়েছেন তিনি। আবার টাকা নিয়ে বলছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পড়ে দেখা করিয়ে দেব।’‌

এর পাল্টা বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‌২০১৯–এর নির্বাচনে ৩ লাখ ভোটে জেতার যে অহঙ্কার অভিষেক করছেন সেটা সম্পূর্ণভাবে ভোটের কারচুপি। ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, মেটিয়াবুরুজ— জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচন হোক কোথাও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হয়নি।’‌ ‌ মঙ্গলবারের পদযাত্রাতেও শোভনের নিশানায় ছিলেন অভিষেক৷

এদিন  কলকাতা পুরসভার বর্তমান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমকেও আক্রমণ করেছেন শোভন৷ তিনি বলেন, ‘আমি ছেড়ে আসার পর কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব যাঁরা নিয়েছেন, নির্বাচন হলে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে মানুষই বুঝিয়ে দেবেন তাঁরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেছেন কি না৷’ শোভনের দাবি, তৃণমূল ক্ষমতা হারাবে। বিজেপির ক্ষমতায় আসা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

এদিন বিজেপির রোড শো-তে তারস্বরে বাজছিল ডিজে! ওই একই সময় বেলেঘাটার একাধিক জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে গান বাজানো হচ্ছিল। এই নিয়ে শাসকদলকে আক্রমণ করেন শোভন-বৈশাখী। বিজেপি নেত্রী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘তৃণমূল প্রোগ্রাম চুরির চেষ্টা করেছিল, ওরা এখনও পাকা চোর হয়ে উঠতে পারেনি।’’

শোভনের রোড শোয়ের সাফল্যের পরেই শহরের প্রাক্তন মেয়রকে তীব্র আক্রমণে বিঁধেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেছেন সারদার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাঁচতে বিজেপির শরণে গিয়েছে শোভন। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে রয়েছে। ইডি, সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতেই শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপির শরণে গিয়েছেন বলে দাবি করেন কুণাল ঘোষ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।