নয়াদিল্লি: পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ৪০ জওয়ান শহিদ হওয়ার ঘটনায় রাগে ফুঁসছে গোটা দেশ৷ পাকিস্তান যোগ্য জবাব দিতে বদ্ধপরিকর ভারত৷ আর এবার এই পরিস্থিতিতেই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং জানালেন, ‘চোখের পরিবর্তে চোখ, দাঁতের পরিবর্তে দাঁত… ৪১ জওয়ানের প্রাণের বদলা নিতে হামলাকারী দেশের ৮২ জনের প্রাণ নিতে হবে৷’

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তান এবং জঙ্গি সংগঠনগুলিকে কড়া বার্তা দিতে যত সেনা শহিদ হয়েছেন তার ডবল অর্থাৎ ৮২ জনকে খতম করতে হবে৷ ‘এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়৷ কেউ যুদ্ধ করতে যেতে বলছে না, কিন্তু সেনা হত্যা মজা নয়৷ কিছু একটা করতেই হবে৷ আমি বীতশ্রদ্ধ৷ দেশ বীতশ্রদ্ধ’, জানান ক্ষুব্ধ ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং৷

পড়ুন: ১৭ ঘণ্টার এনকাউন্টারে খতম তৃতীয় জইশ জঙ্গি

একদিকে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশোধের কথা বলেছেন, অন্যদিকে সেখানেই নভজ্যোত সিং সিধুর বক্তব্যে ঝড় ওঠে৷ তাঁর মতে, জঙ্গিদের কার্যকলাপের জন্য সমগ্র দেশকে দায়ী করা যায় না৷ এরপরেই সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি৷

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন এই ক্রিকেটার তথা রাজনীতিক বলেন, ‘আমি জানতে চাই, মাসুদ আজহারকে কে মুক্তি দিয়েছিল ১৯৯৯ তে?’ ৯৯ সালে কান্দাহারের বিমান হাইজ্যাকের প্রসঙ্গ তুলে এনে একথা বলেন সিধু। ওই সময়, বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রীকে বাঁচাতে ভারতের জেলে বন্দি থাকা মাসুদ আজহারকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার।

পড়ুন:  মোটরসাইকেলের চাবি ব্যবহার করেই কাশ্মীরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা: রিপোর্ট

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এরপর ভারতে একের পর এক হামলা করেছে মাসুদ হাজহারের সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। পাঠানকোটে হামলার পর পুলওয়ামার হামলাতেও নাম উঠে এসেছে সেই মাসুদ আজহারের।

এদিকে, সিধুকে ঘিরে সোমবার উত্তাল হয় পঞ্জাব বিধানসভা। পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পরেও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পঞ্জাব বিধানসভায় বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে৷ সোমবার শিরোমণি অকালি দল পঞ্জাবের মন্ত্রীকে বিধানসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে৷ বিধানসভায় তখন উপস্থিত ছিলেন সিধুও৷ বিরোধী দলের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়ান তিনি৷