বিশেষ প্রতিবেদন: দার্জিলিং পার্বত্যাঞ্চলের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সমর্থক সিকিম৷ সেই আন্দোলনের আঁচে এবার নিজেদেরই ভুগতে হচ্ছে৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী বিক্ষোভের আঁচে গরম হয়ে গিয়েছে প্রতিবেশী রাজ্যের কালোবাজার৷ বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া সিকিমের জেলাগুলি৷

দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের জেরে প্রায় স্তব্ধ আন্তঃরাজ্য পরিবহণ৷ শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার রাস্তা ১০ নম্বর জাতীয় দিয়েই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি করে সিকিম সরকার৷ হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে এই সড়কে বারবার আক্রান্ত হয়েছে সিকিমের গাড়ি৷ ফলে ধাক্কায় খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, রান্নার গ্যাস সহ বিভিন্ন পণ্য রফতানিতে ভাটা পড়েছে৷ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কালোবাজার ফুলে ফেঁপে উঠেছে৷

শুধু পূর্ব সিকিম নয়, পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিমের একাংশে ছড়িয়েছে কালোবাজার৷ আশংকা পাহাড়ি রাজ্যটির সর্বত্র এই পরিস্থিতি দেখা দেবে৷ কারণ, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে যাওয়া পণ্যেই সিকিমের বাজার নির্ভরশীল৷ শিলিগুড়ির ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, গোর্খাল্যান্ডকে সমর্থন করার ফল পাচ্ছে সিকিম৷

চিন্তিত চামলিং সরকার৷ কালোবাজারি রুখতে রাজধানী গ্যাংটকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম৷ এছাড়া বিশেষ সিট গঠন বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে৷ এদিকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহে টান পড়ায় ক্ষুব্ধ জনগণ৷ তাঁরা ভুরি-ভুরি অভিযোগ জানাচ্ছেন৷ সেই ধাক্কায় অস্থির সরকারী কর্তারা৷ কয়েকটি ক্ষেত্রে তদন্ত শুরু হয়েছে৷ সেই সঙ্গে জমছে আশঙ্কার কালো পাহাড়৷ পরিস্থিতি এমন চললে অচিরেই রাজ্যের সর্বত্র কালোবাজারি ছড়িয়ে পড়বে৷

দো টানায় পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিং৷ সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অনেকেরই প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী কালোবাজারিদের রুখবেন না গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকে সমর্থন যুগিয়ে যাবেন? এদিকে, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে নিরাপদে পণ্য পরিবহণের আবেদন করেছে সিকিম সরকার

গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন একমাস পার হয়েছে৷ সমতল থেকে বিচ্ছিন্ন দার্জিলিং-কালিম্পং জেলা৷ ডুয়ার্সের কিছু অংশে ছড়িয়েছে মোর্চার অবস্থান৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন করেছে সিকিম৷ গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, সিকিমের ঘাঁটি থেকে পাহাড়ে হিংসাত্মক আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে মোর্চার রক্ষী বাহিনী জিএলপি৷