প্যারিস: গত ১৫ এপ্রিল আগুনের গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্যারিসের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গীর্জা নতর-দাম৷ এটি নতর দাম দ্য প্যারি নামে পরিচিত। চতুর্দশ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয় ওই গীর্জা। প্রায় ১৭০ বছর ধরে নির্মাণ করা হয়েছিল গীর্জাটি। তবে ঠিক কী কারণে এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আগুনের কবলে পড়ে তা স্পষ্ট হয়নি। আগুনের তীব্রতার কারণে ভেঙে পড়ে গীর্জার ছাদও৷ তবে এখন মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট বা সিগারেটের থেকে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে৷ বৃহস্পতিবার নতর-দাম দেখতে এসে এমনটাই জানিয়েছে ফরাসী পুলিশ৷

বৃহস্পতিবার ক্যাথেড্রালে অনুসন্ধানকারীরা এলে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ভেঙে পড়া গীর্জার ভিতরে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি৷

পড়ুন: বাংলাদেশে জঙ্গিদের প্রতিশোধপরায়ণ প্রবণতা জেগে উঠেছে

চতুর্দশ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয় এই গীর্জা। প্রায় ১৭০ বছর ধরে নির্মাণ করা হয়েছিল গীর্জাটি। অত্যন্ত প্রাচীন এই গীর্জায় এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন প্যারিস তথা সমগ্র ফ্রান্সের প্রশাসন। এই অগ্নিকাণ্ডে সেখানের কর্মী থেকে আধিকারিক, গীর্জার সদস্য, আর্কিটেক্ট, স্থানীয় প্রশাসকসহ অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ তবে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাওয়ায় এই বিষয়টির ওপরে জোর দেওয়া হচ্ছে৷

এই ক্যাথলিক গির্জাটি বর্তমানে প্যারিসের আর্চবিশপ বা মহাবিশপের অধীনে রয়েছে। গির্জাটি প্যারিস শহরের ৪র্থ আরোঁদিসমঁ বা ওয়ার্ডে, সেন নদীতে অবস্থিত ইল দ্য লা সিতে নামক দ্বীপের পূর্ব পাশে অবস্থিত। গির্জাটির পশ্চিমমুখী অংশটির সামনে রয়েছে উন্মুক্ত জঁ-পল চত্বর।

গগনস্পর্শী উচ্চতা ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য নোত্র্‌-দাম গির্জাটি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এটি প্যারিস নগরী, ফ্রান্স, এমনকি সমগ্র ইউরোপের পর্যটকদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় ক্যাথেড্রাল। প্রতি বছর ২ কোটি লোক এটি দেখতে আসে এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ পর্যটক গির্জার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ গির্জায় প্রবেশের জন্য পর্যটকদের কোনও অর্থ প্রদান করতে হয় না।

পড়ুন: শক্তি বাড়িয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন একগুচ্ছ প্রাক্তন আর্মি অফিসার

দীর্ঘকাল প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে নোতর দাম গির্জা প্রসিদ্ধ ছিল। ১৮৩১ সালে এটি প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল ভিক্তর উগোর উপন্যাস নোতর দাম পারি-তে ভবনটিকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। অভিষেককালে ফ্রান্সের রাজা ও সম্রাটদের এই গির্জাতেই শপথ পড়ানো হত। আধুনিক ফ্রান্সের অনেক রাষ্ট্রপতির যেমন শার্ল দ্য গল, জর্জ পোঁপিদু, ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ প্রমুখের শেষকৃত্য এই গির্জাতেই অনুষ্ঠিত হয়।