শংকর দাস, বালুরঘাট: ‘চিক চিক করে বালি কোথা নাই কাদা। একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।’ কবিগুরুর লেখা এই পঙক্তিই এইবারে বাস্তবে ফুটে উঠেছে আত্রেয়ীর গর্ভে। যে শোভায় আকৃষ্ট হয়েছেন নাটক তথা সংস্কৃতির জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরের সকলে। বিশেষ করে চিত্রশিল্পী ও নির্দেশকদের চোখে তা অন্য মাত্রায় ধরা পড়েছে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের অন্যতম প্রধান নদী আত্রেয়ী। আধুনিক ও সভ্য জগতের বোধ বুদ্ধিহীনতার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে সে। ফলস্বরূপ তাঁর গর্ভে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছে একের পর এক বালির চর। এইবারে এই চরেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আত্রেয়ী তথা প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে কাশফুলের ঘন বন। দুই পাড়ের আকাশে পেঁজা তুলার মেঘ আর সঙ্গে আত্রেয়ী গর্ভের জন্ম নেওয়া কাশফুলের রঙের ছটা এই বছরের শারদোৎসবকে আরও রঙিন করে দিয়েছে। প্রকৃতি প্রেমী মানুষজন ভিড় জমাচ্ছেন সেই কাশবনে। এমনকি ডকুমেন্টারির নির্মাতা ও চিত্রশিল্পীরাও আত্রেয়ীর বালি চরের সেই শোভাকে ক্যামেরা বন্দি করতে চরে নেমে পড়েছেন। কাশফুলের বাহারে তৈরি হচ্ছে মহালয়ার আগমনী সংক্রান্ত দৃশ্যপট ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিভিন্ন সিনেমা। বহু মানুষ সেখানে পৌঁছে কাশফুলের সান্নিধ্যে সেলফিও তুলছেন।

জেলার বিশিষ্ট কথ্যক নৃত্য প্রশিক্ষক সুচরিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, দুর্গা পুঁজও উপলক্ষে প্রতিবারই তাঁরা আগমনীর নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন। যে নৃত্যনাট্যে কাশফুল নদী ও প্রকৃতির নানান দৃশ্য তুলে ধরা হয়। এই বছরও আগমনী নিয়ে নৃত্যনাট্যের আয়োজন করেছেন। আত্রেয়ী নদীর চর ও কাশফুলের বন তাতে দারুণভাবে কাজে দিয়েছে।

বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী প্রণয় সিংহ ও নির্দেশক তথা ডকুমেন্টারি নির্মাতা সুনঞ্জয় সরকার জানিয়েছেন, এই বছর আত্রেয়ী চরে কাশফুল এমনভাবে ভরে উঠেছে৷ তা আগমনীর শুটিংয়ে তাঁদের দারুণ ভাবে কাজে দিয়েছে। শারদোৎসব ও মহালয়া উপলক্ষে বিভিন্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে অপরূপ এই শোভাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন।