কলকাতা- অবশেষে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে শুটিং। শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল বুধবার অর্থাৎ ১০ জুন থেকেই। কিন্তু আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে প্রযোজক এবং চ্যানেলগুলির তরজায় বন্ধ হয়ে যায় আজকের শুটিং। কিন্তু এর কারণ কী?যে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে প্রযোজকরা সারা বছর কাজ করেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁরা কি একটুও সচেতন নন? আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে ১০ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এমনই দাবি করা হয়।

এছাড়াও কী কী নতুন গাইডলাইন নিয়ে টলিপাড়ায় শুটিং শুরু হতে পারে তার প্রস্তাবনা পেশ করেছিল আর্টিস্ট ফোরাম। কিন্তু সেখানে কোনও সই এবং অনুমোদন নেই বলে সেই গাইডলাইনে মেনে চলা হবে কি না তা ৯ জুন পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি। উপরন্তু প্রযোজক ও চ্যানেলগুলি সাহায্য করছেন না বলে জানিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম।

আর তাই টেলিভিশনের শুটিং এখনই শুরু হচ্ছে না বলে বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করে আর্টিস্ট ফোরাম। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধান হল। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে শুটিং। বুধবার মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এর সঙ্গে প্রোডিউসার গিল্ড, আর্টিস্ট ফোরাম এবং অন্যান্য সংগঠনগুলি একটি বৈঠক করে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতের অমিল হচ্ছিল।

সেগুলি এই বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বাস্থ্য বীমার নিয়েও কিছু মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সেই মতোই বন্টন হবে বলে জানা গিয়েছে। বীমার ৫০% দেবে চ্যানেলগুলি, ৪০% দেবেন প্রযোজকরা এবং ১০% শিল্পীরা দেবেন। অবশেষে সমস্যা মিটিয়ে শুটিং শুরু হওয়ার ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তিতে শিল্পীরা।

প্রসঙ্গত ১০ জুন আর্টিস্ট ফোরাম বৈঠকের আগে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল , “শুটিং শুরু করার আগে সমস্ত চ্যানেল ও প্রযোজকদের কাছে আর্টিস্ট ফোরাম শিল্পীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করার জন্য কিছু নৈতিক দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে যাদের সামনে রেখে তারা সারা বছর ব্যবসা করেন তাদের সামান্যতম স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায় তারা নিতে রাজি নন।

অথচ ফোরামের কোনো আর্থিক মুনাফার না থাকা সত্বেও শুধুমাত্র শুটিংটা যাতে আটকে না যায় তার জন্য শিল্পীদের হয়ে জীবন বীমার ১০ শতাংশ প্রিমিয়ামের গুরুদায়িত্ব ফোরাম স্বেচ্ছায় ঘাড়ে তুলে নেয়। কিন্তু তারপরেও তাদের কাছে শিল্পী কলাকুশলী আর অন্যান্য প্রোডাক্ট এর মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই। শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রাণ বিপন্ন করেও তারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান।

তাদের এই অমানবিক সিদ্ধান্তের জন্য আটকে গেল টেলিভিশনের শুটিং।” অন্যদিকে ৯ জুন রাতে প্রোডিউসারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট করা হয়। সেই পোস্টে বলা হয়, চ্যানেল, ফেডারেশন ও প্রযোজকদের যৌথ উদ্যোগ ও সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আর্টিস্ট ফোরামের ইচ্ছাকৃত আপত্তি থাকার কারণে আমরা কাল থেকে শ‍্যুট শুরু করতে পারছি না।

এমতাবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে যতদিন দেশে করোনা পরিস্থিতি থাকবে, ততদিন আমরা শ্যুটিং শুরু করব না। অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় ও দেবযানী চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন। তবে অবশ্য এখন আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে প্রযোজকদের এই বাকবিতণ্ডায় ইতি টানা হলো। আর তাই ১১ জুন থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হচ্ছে শুটিং।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।