ক্রাইস্টচার্চ: নিউজিল্যান্ডে বন্দুকবাজের হামলা৷ ক্রাইস্টচার্চের সাউথ আইল্যান্ডের ডিনস অ্যাভিনিউয়ে আল নূর মসজিদে এই হামলা হয়৷ নিহত ৬৷ মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনুমান৷ দু’জন বন্দুকবাজ এই হামলা চালিয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে৷ স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ৷

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানাচ্ছেন, যথেষ্ট সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি বাগে আনার চেষ্টা করছে তারা৷ তবে দেখেশুনে পদক্ষেপ করতে হচ্ছে৷ অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে৷ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা৷

শহরের হাগলে পার্কে রয়েছে আরও একটি মসজিদ৷ সেটির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ তবে সেদেশের সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুশারে শহরের দ্বিতীয় মসজিদেও গুলি চলেছে৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রাইচার্চের সব স্কুল কাউন্সিল ভবনগুলি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডান তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচি বাতিল করেছেন৷

আরও পড়ুন: বন্দুকবাজের হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

নিউজিল্যান্ড প্রশাসন বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যুর কথা না জানালেও সেদেশের সরকারি রেডিও বলছে, সাউথ আইল্যান্ডের মসজিদের বাইরে চারজনের দেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে৷ চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে রক্ত৷

আরও পড়ুন: ফের কাশ্মীরে জঙ্গি হানা, সাধারণ মানুষের মৃত্যু

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি৷ কিন্তু বন্দুকবাজরা কেন মসজিদে হামলা করল তা বোঝা যাচ্ছে না৷ নারকীয় এই কাজের কোনও ক্ষমা নেই বলে দাবি নিউজিল্যান্ড পার্লামেন্টের সদস্য অ্যামি অ্যাডামসের৷ তিনি জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে এটা কালো দিন৷ হিংসার ভয়ঙ্কর রূপ এই হামলা৷ পুলিশ আততায়ীতে চিহ্নিত করতে পেরেছে৷

বর্তমানে নিউজিল্যান্ড সফরে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল৷ হেগলে ওভালে শনিবার থেকে তৃতীয় টেস্ট খেলার কথা৷ কিন্তু শুক্রবার দুপুরে নামাজ পড়তে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা ক্রাইশ্চচার্চের আল নূর মসজিদে পৌঁছনোর পর দুই বন্দুকবাজ গুলি ছুঁড়তে থাকে৷ আতঙ্কিত হয়ে সেখান থেকে নিরাপদেই বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের বের করে নিয়ে আসেন নিরাপত্তারক্ষীরা৷ অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালরা৷ তাঁরা দ্রুত দেশে ফিরতে চান৷

ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক ঘন্টা৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত আততায়ীকে ধরা সম্ভব হয়নি৷ বাড়ানো হয়েছে গোটা ক্রাইস্টচার্চের নিরাপত্তা৷ বন্দুকবাজদের সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের যোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেকা হচ্ছে৷