স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন এক তৃণমূল নেতাসহ তিন৷ মৃতদের মধ্যে একজন জয় হিন্দ বাহিনীর ব্লক সভাপতি সৈফুদ্দিন৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিট নাগাদ থানার কিছুটা দূরেই ঘটনাটি ঘটেছে৷ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস৷

দক্ষিণ ২৪ পরগণার জয়নগর দুর্গাপুরের একটি পেট্রোল পাম্পে দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি ও এলোপাথাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়৷ এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী৷

জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস সারা দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি সেরে সন্ধ্যায় বহড়ু পার্টি অফিসে যাচ্ছিলেন৷ প্রতিদিন তিনি জয়নগর দুর্গাপুরের পেট্রোল পাম্পের কাছে চা খেতে যান৷ বৃহস্পতিবার তিনি চা খেতে না গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে বহড়ু পার্টি অফিসে যান৷ আর ওই গাড়িটি চালক পেট্রোল পাম্পে তেল ভরতে যান৷

পড়ুন: বধূ নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন মোহনকর্তার ছেলে

গাড়িটি পাম্পে দাঁড়াতেই বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে বোমাবাজি করতে শুরু করে৷ এরপর দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে৷ গুলিতে নিহত হন বিধায়কের গাড়ির চালক বাবু৷ এছাড়া জয় হিন্দ বাহিনীর ব্লক সভাপতি সৈফুদ্দিন ও স্থানীয় এক বাসিন্দা৷ গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে যান বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস৷

পড়ুন: কানে হেডফোন, অসতর্ক দুই তরুণীকে প্রাণে বাঁচিয়ে মরণাপন্ন যুবক

স্থানীয় বিধায়কের দাবি, দুষ্কৃতীদের টার্গেট ছিলেন তিনি৷ তাঁকে খুন করার জন্যই দুষ্কৃতীরা এসেছিল৷ ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গিয়েছেন৷ প্রতিদিন জয়নগর দুর্গাপুরের পেট্রোল পাম্পের কাছে চা খেতে যান৷ এদিন চা খেতে না গিয়ে স্থানীয় পার্টি অফিসে যাই৷ দুষ্কৃতীরা ভেবেছিলেন গাড়িতে আমি আছি৷ তাই ভেবে দুষ্কৃতীরা গাড়ি ঘিরে এলোপাথারি গুলি চালাতে থাকে৷ তিনজনকে গুলি করে খুন করে বাইকে করে পালিয়ে যায়৷

অন্যদিকে জয়নগরের প্রাক্তন বিধায়ক জয়কৃষ্ণ হালদার জানান, জয়নগরে তৃনমুলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তো লেগেই আছে৷ এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর মুখ পর্যন্ত দেখে না৷ কারও অনুষ্ঠান বাড়ি কেউ যায় না৷ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানান, তৃনমুলের গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে৷ রাজ্যে একটা নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে শ্যুটআউট৷

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ কেন এই হামলা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷