সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বছরের পর বছর ধরে তাঁরা কলকাতার বড়-বড় পুজো মণ্ডপে কাজ করেছেন। তাঁদের শিল্পের ছোঁয়া-জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে বাঙালি। দুর্গা পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে শোলার কাজ। লকডাউন , কোভিড সমস্যায় জর্জরিত এই শিল্পও। অর্ডার আসছে না, এদিকে পুরোনো ব্যবসা মহাযাঁতাকলে। কীভাবে এই সমস্যা থেকে উদ্ধার হবে? খুঁজছেন পথ। আশা , ডুবতে থাকা শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

শোলা দিয়ে ঠাকুরের সাজ, মণ্ডপের বিভিন্ন অন্দর সজ্জা। দুর্গোৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ওঁদের শিল্প। কিন্তু এই বছর কোথায় কী? পুজোর আর ১০০ দিনও বাকি নেই। এই সময়ে মুখ তোলার সময় থাকে না। শোলার কাজের অর্ডারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পটুয়াপাড়ার শোলা শিল্পীরা। এই বছর চেনা ব্যস্ততা নেই। সকাল, দুপুর সন্ধ্যা সবসময়েই একটাই কাজ। অপেক্ষা করা কাজ আসার। আবার অন্যরকম সমস্যাও রয়েছে, শিল্পীরা জানাচ্ছেন সেই কথাই। শম্ভুনাথ মালাকার, পটুয়াপাড়ায় ওঁদের ১০৫ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান শোলার শিল্প মন্দির। তিনি জানালেন। এটাই আমার ঘর, এটাই আমার মন্দির। কিন্তু এই মন্দির আজ ফাঁকা। মন্দিরের কাজ নেই। কাজ আসার অপেক্ষা করছেন তাঁরা। জানাচ্ছেন, এই অপেক্ষা ক্রমে এই বছর দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কবে যে এই কাজ না আসার সময় কাটবে তা জানেন না তাঁরা। শম্ভুনাথবাবুর কথায়, ‘সমস্যা থাকে, কিন্তু এই সমস্যা যেন বড় দীর্ঘ। কিছুই বুঝতে পারছি না। কীভাবে এই ভাইরাসের সমস্যা যাবে তাও আমাদের জানা নেই। যাঁতাকলে পড়ে গিয়েছি, কারণ এখনও কাজ নেই। এবার সমস্যা হল আমরা বুঝতে পারছি কাজ আসবে আর কিছুদিন পড়ে। আগস্ট মাস থেকে কিন্তু ওই সময়ে কাজ এলে আমরা ত সময়ে জিনিস দিতে পারব না, কারণ এই কাজটা ত মেশিনের নয়। এটা হাতের কাজ, এটা শিল্প। আর্ট কোনওদিন তারাহুরো করে ভালো হয় না। আবার কাজ করাও যায় না। জানি না কাজ সামাল দেবো কীভাবে।’ শোলা শিল্পী সুজিত মালাকার জানাচ্ছেন , ‘সমস্যা শুধু কাজ না আসার নয় অন্যদিকে যদি কাজ এসেও যায় তখন কর্মী এই বছর পাবো বলে মনে হচ্ছে না। করোনার জন্য ট্রেন বন্ধ। শিল্পীরাও ওইভাবে আসতে ভয় পাচ্ছেন। কীভাবে এই বিষয়টা সামাল দেব জানি না। এই বছরের মতো কঠিন পরিস্থিতি কোনও বছর হয় না। সরকার যদি কিছু সাহায্য করে তাহলে ভালো হয়।’

ধীরেন মালাকার নামে এক শোলা শিল্পী জানালেন, ‘যা অর্ডার আপাতত আছে সেগুলোই চালাচ্ছি। পরে কি হবে কি না হবে কিছুই জানি না। বুঝে গিয়েছি এবারের বাজার খুব খারাপ হবে, না হওয়ারই সমান হবে। এই অবস্থার সামাল দেবো কীভাবে জানি না। কোন পথে এর মুক্তি তাও জানা নেই। লড়াই করতে প্রস্তুত কিন্তু সেটারও একটা সীমা থাকে। ধৈর্যের বাঁধ ভাংছে। আরও অপেক্ষা করি, দেখি কিছু পরিবর্তন হয় কি না।’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও