স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: তৃণমূল সাংসদ অর্পিতা ঘোষের ছবিতে জুতোর মালা৷ সেই জুতো পরা ছবি এখন শোভা পাচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর বালুরঘাটের গঙ্গারামপুর শহরের জনবহুল রাস্তায়৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার অর্পিতা৷ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি নিয়ে তৃণমূলের এক গোষ্ঠীকে সমর্থন জানিয়ে অন্য গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হন বালুরঘাটের সাংসদ৷ তাই অপর গোষ্ঠীর সদস্যরা অর্পিতার ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে তা রাস্তায় রাস্তায় টাঙিয়ে দিয়েছে৷

তবে যার ছবিতে জুতোর মালা পরানো হয়েছে সেই অর্পিতা ঘোষ নিজেই ঘটনা সম্পর্কে বিন্দুবিসর্গ জানেন না বলেই জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: কাউকে না জানিয়ে দিদির মৃতদেহ আগলে রাখল বোনেরা

জেলার রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত৷ গত ২১ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন৷ গঙ্গারামপুর স্টেডিয়ামে প্রশাসনিক জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী একথা ঘোষণা করেছিলেন৷ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি কোথায় তৈরি করা হবে, তা নিয়ে রা কাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী৷

এরপরই তৃণমূলের জেলা সভাপতি গঙ্গারামপুরে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির দাবি জানিয়ে জমি খোঁজাও শুরু করে দেন৷ এতে বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর লোকেরা ক্ষেপে যায়৷ তারা জেলা সদর বালুরঘাটে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির আর্জি জানান৷ বালুরঘাটের স্বপক্ষে মুখ খোলেন সাংসদ অর্পিতাও৷

আরও পড়ুন: হোলির দিনে পৃথক পথ দুর্ঘটনার বলি ৬

এই টানাপোড়েনের মধ্যে বুধবার বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে বিশ্ববিদ্যালয়টি বালুরঘাটে তৈরি করা হবে৷ শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণায় উল্লসিত হয়ে পড়েন তৃণমূলের এক গোষ্ঠী৷ অপরদিকে এই ঘোষণায় ক্ষোভের সঞ্চার হয় আরেক গোষ্ঠীর মধ্যে৷ গঙ্গারামপুরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলন৷

রাস্তায় নেমেছে নাগরিক মঞ্চও৷ তবে তৃণমূলের অন্দরে খবর, শাসকদলের লোকেরা নাগরিক মঞ্চের আড়ালে এই আন্দোলন শুরু করেছে৷ সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ছবিতে জুতোর মালা পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জুতোর মালা পড়ানো সাংসদের ফ্লেক্স-ছবি গঙ্গারামপুরের চৌমাথা ট্রাফিক মোড়ের উপর টাঙিয়েও দেওয়া হয়েছে। ছবিতে অর্পিতা ঘোষ “গো ব্যাক”, “দূর হটো”ও লেখা রয়েছে।

আরও পড়ুন: গুলি করে খুন করার হুমকি আরাবুল ইসলামকে

এই ব্যাপারে সাংসদ অর্পিতা ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে জানান, সেটি কোথায় হবে তা একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করবেন। সুতরাং তা নিয়ে অহেতুক বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুরের মধ্যে বিরোধ তৈরির চেষ্টা বন্ধ হোক।