হায়দরাবাদ: পণের দাবিতে বাড়ির বউয়ের উপর অত্যাচার আমাদের দেশে কোনও নতুন ঘটনা নয়। অনেক সময়েই বধূহত্যার খবরের শিরোনাম চমকে দেয়। সেসব খবর সামনে এলে অনেকেই বলে থাকেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের শিক্ষার অভাব, তাই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। কিন্তু গত কয়েক ঘণ্টা ধরে ফেসবুকে বা ট্যুইটারে যে ভিডিও ফুটেজ ঘোরাফেরা করছে, তা সত্যিই চমকে দেওয়ার মত।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক বয়স্ক ব্যক্তি এক মাঝবয়সী মহিলার উপর অত্যাচার করছে। কখনও বিছানায় ঠেলে ফেলে দিচ্ছে, কখনও মেঝেতে হিঁচড়াতে হিঁচড়াতে নিয়ে যাচ্ছে। ফুটেজ দেখে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে এটি তাঁর পুত্রবধূ। ফুটেজে ওই ব্যক্তির ছেলে ও স্ত্রী’র উপস্থিতিও চোখে পড়ছে। তবে এই বয়স্ক ব্যক্তির পরিচয় জানলে সত্যিই অবাক হতে হয়।

তিনি নাকি তামিলনাড়ু হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নুটি রামমোহন রাও। যাঁদের হাতে দেশের মানুষের বিচারের ভার, তাঁর হাতেই এমন অবিচার দেখে সত্যিই অবাক হতে হয়।

নিগৃহীতার নাম সিন্ধু শর্মা। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নুটি রামমোহন রাও ও নুটি দুর্গা জয়লক্ষ্মীর ছেলে নুটি বশিষ্ঠের। দেখা যাচ্ছে, ওই বাড়ির গৃহবধূকে টেনে হিঁচড়ে খাট থেকে মাটিতে নামাচ্ছেন তিন জন। স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুরমশাই। মা’কে বাঁচাতে ছুটে আসছে ছোট্ট সন্তান।

ভিডিওটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের। এপ্রিলেই অভিযোগ দায়ের করেছিলে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ। বিয়ের পর থেকেই নাকি পণ ও যৌতুক নিয়ে তাঁর ওপর অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এপ্রিলে ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যখন সিন্ধু হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপরেই তিনি মামলা দায়ের করেন শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে আসে সিসিটিভি ফুটেজ।

মামলা দায়েরের একসপ্তাহ পরেই দুই নাবালিকা কন্যাসন্তানের কাস্টডি চেয়ে এরপরেই আদালতের দ্বারস্থ হন সিন্ধু। তাঁর ছোট মেয়ে তখনও স্তন্যপান করে। সমাজকর্মী অচ্যুত রাওয়ের হস্তক্ষেপে ছোট মেয়েকে কাছে পান সিন্ধু। পরে আদালত সিন্ধুর শ্বশুরবাড়িকে নির্দেশ দেন, বড় মেয়েকেও সিন্ধু হেফাজতে দেওয়ার। এক সাক্ষাৎকারে সিন্ধু জানিয়েছেন, দুই সন্তানের চোখের সামনেই মারধর করা হত তাঁকে।

যদিও সিন্ধুর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর দাবি, মানসিক অবসাদে ভোগার ফলে প্রায়ই আত্মহত্যার চেষ্টা করতেন সিন্ধু। ঘটনার দিনও তিনি সেটাই করতে গেছিলেন। তাঁকে বাঁচাতেই সবাই মিলে ধরে রেখেছিলেন। কোনোদিনই কোনও অত্যাচার করা হয়নি সিন্ধুর সঙ্গে। তাদের আরও অভিযোগ, ওই দিন নিজের পোশাকের নীচে বিষাক্ত কীটনাশক লুকিয়ে রেখেছিলেন আত্মহত্যা করবেন বলে। ২০১২-য় বিয়ের পর থেকেই সিন্ধুর নাকি লক্ষ্য ছিল সমস্ত সম্পত্তি নিজের দখলে আনার। এমনটাও জানিয়েছেন ওই বিচারপতি।