নয়াদিল্লি: ফের বিতর্ক তৈরি করে মন্তব্য ভোপালের বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের৷ সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির শোকসভায় গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা৷ তাঁর মতে একের পর এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা নেত্রীর মৃত্যুর পিছনে হাত রয়েছে বিরোধীদের৷ তাদের তুকতাক আর কালা জাদুর জন্যই বিজেপি নেতা নেত্রীরা মারা যাচ্ছেন৷

সোমবার অরুণ জেটলি ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্মৃতিতে একটি স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়৷ সেখানেই এই মন্তব্য করে বসেন সাধ্বী৷ বিরোধীরা নাকি মড়ক শক্তি নামে একটি বিশেষ টোটকা ব্যবহার করছে বিজেপির বিরুদ্ধে৷ এমনই মত বিজেপি সাংসদের৷

আরও পড়ুন : আগাম জামিনের আবেদন খারিজ, সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা চিদাম্বরমের

তাঁর আরও দাবি বিজেপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে টোটকা বা কালা জাদু করছে বিরোধী, এই ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন তিনি৷ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বেড়িয়ে এই ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, তাঁর অভিযোগ তখন কেউ তাঁর কথায় গুরুত্ব দেয়নি৷ যার ফল আজ ভোগ করছে বিজেপি৷

সাধ্বী মনে করছেন অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজের মত নেতা নেত্রীর মৃত্যুর জন্য শারীরিক অসুস্থতা কোনও ভাবেই কাজ করেনি৷ এসবই হয়েছে বিরোধীদের জন্য৷

এর আগেও এই ধরণের মন্তব্য করেছেন সাধ্বী প্রজ্ঞা৷ তিনি বলেছিলেন, তাঁর অভিশাপেই জঙ্গিদের হাতে শহিদ হয়েছে ছিলেন মুম্বই সন্ত্রাসদমন শাখার প্রধান হেমন্ত কারকারে৷ একজন শহিদ দেশের গর্ব৷ তাঁকে নিয়ে এই ধরণের নিম্ন মানের মন্তব্য কি করে কোনও নেতা করতে পারেন? সেই প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী শিবির৷ তবে তাতে বিশেষ কিছু হেলদোল ছিল না প্রজ্ঞার৷ হেমন্ত কারকারেকে তিনি নাকি বলেছিলেন তাঁর সর্বনাশ হবে৷ সেই অভিশাপেই মৃত্যু হয় হেমন্তের৷

আরও পড়ুন : কাশ্মীরের বিজেপি সভাপতি করা হোক রাজ্যপাল সত্যপাল মালিককে : অধীর

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন মহারাষ্ট্র সন্ত্রাস দমন শাখার (এটিএস) প্রধান হেমন্ত কারকারে, মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন, মুম্বইয়ের অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার অশোক কামতে এবং সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর বিজয় সালাসকর৷

সেই ঘটনার উল্লেখ করে সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন ওই হামলার কিছুদিন আগেই হেমন্ত কারকারেকে তিনি অভিশাপ দেন৷ আর সেই অভিশাপই ফলে গিয়েছিল হেমন্ত কারকারের জীবনে৷ জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর৷