পাটনা: লোকসভা ভোটে দলের খারাপ ফল কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব৷ এতটাই মুষড়ে পড়েছেন যে খাওয়া-দাওয়া অবধি কমিয়ে দিয়েছেন৷ এতে তাঁর স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে৷ ডাক্তাররা অনেক বুঝিয়েও লালুর খাবারের প্রতি অনীহা কাটাতে পারছেন না৷ তবুও তারা হাল ছাড়ছেন না৷

২৩ মে লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণা হয়৷ হাসপাতালে থাকলেও সকাল থেকেই চোখ ছিল টিভির পর্দায়৷ কিন্তু বেলা গড়াতেই ছবিটা পরিস্কার হয়ে আসে৷ এনডিএ জোটের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে মহাজোট৷ আরজেডি’র শোচনীয় পরাজয় হয়৷ তারপর থেকে দুঃখে খাওয়া-দাওয়া একরকম ছেড়ে দেন৷ সূত্রের খবর, ফল প্রকাশের পর তিন দিন দুপুরে কোনও খাবার মুখে তোলেননি আরজেডি প্রধান৷ সুস্থ থাকার জন্য অন্ন গ্রহণ জরুরি বুঝিয়েও চিকিৎসকরা ব্যর্থ হন৷

লালু এখন রাঁচির রাজেন্দ্র প্রসাদ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে ভরতি৷ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ব্লাড প্রেসার, সুগার ও কিডনির অসুখে ভুগছেন৷ প্রতিদিন কড়া মাত্রার ওষুধ খেতে হয়৷ এই অবস্থায় খাবার খাওয়া কমিয়ে দিলে শরীরের উপর প্রভাব পড়তে বাধ্য৷ হাসপাতালেরই কর্মীরা জানিয়েছেন, লালুজি আসলে ভোটে দলের খারাপ ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না৷ নইলে সদা হাসিখুশিময় লালু এই ভাবে ভেঙে পড়তেন না৷

উল্লেখ্য, এই প্রথম লালুকে ছাড়াই লোকসভা নির্বাচন লড়ে আরজেডি৷ আর তাতেই ভরাডুবি৷ বিহারে আরজেডি’র ফল এবার আক্ষরিক অর্থেই খারাপ হয়েছে৷ ঝাড়খণ্ডেও তেমন কামাল দেখাতে পারেনি৷ ১৯৯৭ সালে লালু নিজের হাতে দলটি তৈরি করে৷ তারপর থেকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার লোকসভা ভোটে খাতা খুলতে পারেনি আরজেডি৷ যাদব পরিবারের প্রত্যেক সদস্য ভোটে গোহারা হেরেছেন৷

রাজ্যের ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৯টি গিয়েছে এনডিএ’র ঝুলিতে৷ মাত্র একটি আসনে জয়ী হয় কংগ্রেস৷ ২০১৪ সালে প্রবল মোদী হাওয়াতেও আরডেজি চারটি আসন পায়৷ অথচ এবার খড়কুটোর মতো উড়ে যায় প্রতিটা বিরোধী দল৷