স্টকহোম : নিখোঁজ সুইডিশ মহিলা সাংবাদিকের মুন্ডুহীন দেহ উদ্ধার হল ডেনমার্কের জলসীমায়৷ সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে এমনই খবর প্রকাশ করা হয়েছে৷

জানা গিয়েছে, এদিন উদ্ধার হওয়া দেহটির ডিএনএ’র সঙ্গে নিখোঁজ সুইডিশ মহিলা সাংবাদিক কিম ওয়ালির সাদৃশ্য রয়েছে বলে ডেনমার্কের পুলিশ মনে করছে৷ এবিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে ডেনমার্কের পুলিশ টুইট করে জানিয়েছে৷ তবে, ওই মহিলা সাংবাদিকের কীভাবে মৃত্যু হল তা এখমই বলতে পারেনি পুলিশ৷ মৃত্যুর কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে৷ মনে করা হচ্ছে, বড়সড় কেলেঙ্কারি জানতে পারার জন্যই ওই মহিলা সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া দেহ ফরেনসিক টেস্টে পাঠানো হয়েছে৷ মৃত্যুর আগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

তবে, বিদেশের মাটিতে নয়, রিপোর্টস উইদাউট বর্ডার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য বলছে, ২০১৫ সাল ভারতে সাংবাদিকতার এক ‘কালো অধ্যায়’। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০১৫ সালে ভারতে ১১০ জন সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। এশিয়ার সব থেকে ভয়ানক দেশের তালিকায় ভারত প্রথম স্থানে। এরপরই রয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ক্রাইম ও রাজনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করতে গিয়েই খুন হন সাংবাদিকরা, দাবি রিপোর্টস উইদাউট বর্ডার্স নামের সংস্থার। তাঁদের আরও দাবি, ‘ভারতের সরকার উচিত সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্ল্যান করা’।

কর্মরত অবস্থায় খুন হতে হয় ৬৭ জন সাংবাদিককে। বাকি ৪৩ জনের খুনের আসল কারণ এখনও পর্যন্ত অজানা। এছাড়াও ৭টি সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত প্রায় ২৭ জন সাংবাদিককে (যাঁরা পেশাগত ভাবে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নন) খুন হতে হয়। এই বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘও। ১১০ জন সাংবাদিকের খুনের ঘটনায় জরুরি অবস্থাকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গোটা পৃথিবীতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৫ জন সাংবাদিক। তালিকাটা এমন- সিরিয়া- ১১, মেক্সিকো- ৯, ইরাক- ৭, ইয়েমেন- ৫, আফগান- ৩, ব্রাজিল- ৩, লিবিয়া- ৩, গুয়েতেমালা- ২, ভারত- ২, পাকিস্তান- ২,  এত না হয় গেল এক বছরের পরিসংখ্যান। গোটা একদশকে কতজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন, জানেন? ৭৭০ জন। ২০১৫- ১১০ জন৷ ২০১৪- ৬ জন৷ ২০১৩- ৭১ জন৷ ২০১২- ৮৭ জন৷ ২০১১- ৬৭ জন৷ ২০১০- ৫৮ জন৷ ২০০৯- ৭৫ জন৷ ২০০৮- ৬০ জন৷ ২০০৭- ৮৭ জন৷  ২০০৬- ৮৫ জন৷ ২০০৫- ৬৪ জন৷