ইংরেজবাজার: শিবরাত্রিতে জোর টক্কর পুরাতন মালদহে। কার শিব কত উঁচু তা নিয়েই জোর লড়াই পুজো উদ্যোক্তাদের। বছরের পর বছর ধরে এটাই চেনা ছবি পুরাতন মালদহে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। কোথাও ১৫ ফুট তো কোথাও ২০ ফুটের শিব গড়ে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পুজো কমিটিগুলির।

পুরাতন মালদহের পাড়ায় পাড়ায় এখন জোর টক্কর শিবঠাকুরের উচ্চতা নিয়ে। কোথাও পনেরো, কোথাও সতেরো তো কোথাও কোথাও কুড়ি ফিটের প্রতিমা গড়ে তাক লাগাতে মরিয়া পুজো উদ্যোক্তারা। পুরাতন মালদহের শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই শিবরাত্রি পালনের তোড়জোড় তুঙ্গে। পুজোর আয়োজনে এতটুকুও ফাঁক রাখতে চান না উদ্যোক্তারা। কোথাও দিনভর রয়েছে পুজোর আয়োজন। কোথাও রাতভর শিবলিঙ্গে জল ঢালবেন ভক্তরা।

এরই পাশাপাশি মহাদেবের মূর্তির উচ্চতা নিয়েও এলাকার ক্লাবগুলিতে জোর লড়াই। এমনিতেই এতল্লাটে শিবরাত্রি পালনে বরাবরই উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে। এবারও একই ছবি। এলাকার আট থেকে আশি সবাই মজে মহাদেবের আরাধনায়। এলাকার সব শিবমন্দিরগুলি সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

ক্লাব, পুজো কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও মন্দিরও সাজাতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ধুতুরা ফুল, বেলপাতায় সাজানো হয়েছে শিবলিঙ্গ। অনেকে বাঁক কাঁধে দূর থেকে জল বয়ে আনছেন। তাঁদের জন্যও পথের বিভিন্ন মোড়ে করা হয়েছে জলসত্রের ব্যবস্থা।

কোথাও আবার ভক্তদের জন্য আলাদা বিশ্রামের জায়গাও তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই শিবলিঙ্গে জল ঢালার পর্ব শুরু। এদিকে, পুরাতন মালদহের বিভিন্ন ক্লাবে শিবমূর্তি গড়ে পূজার উন্মাদনা তুঙ্গে। অনেক ক্লাবই উঁচু মূর্তি গড়ে ভক্তদের নজর কাড়তে চেয়েছে। স্থানীয় একটি ক্লাবের কর্তা জানালেন, ভক্তরা শিবলিঙ্গে জল ঢালার পর পাত পেড়ে ভোগ খাবেন। ক্লাবের তরফেই তাঁরা সেই ব্যবস্থা করেছেন।

এরই পাশাপাশি অপর একটি ক্লাবের কর্তা জানালেন, প্রতি বছরই উঁচু শিবমূর্তি কার তা নিয়ে এলাকার ক্লাব ও অন্য পুজো কমিটিগুলির টক্কর চলে। এবারও সেই একই ধারা বজায় থেকেছে। পুজোর অন্য পর্বগুলির পাশাপাশি তাই বাড়তি নজর দিতে হয়েছে মূর্তির উচ্চতাতেও।