সৌমেন শীল, কলকাতা: ভোটের স্বার্থে সংখ্যালঘু তোষণ এখন পুরনো হয়ে গিয়েছে। সেই জায়গায় এসে পড়েছে সংখ্যাগুরুরা। সেই অর্থে তোষণ না হলেও সমাজের সংখ্যাগুরুর কাছাকাছি থাকতে রাজনৈতিক দলগুলির এখন বড় হাতিয়ার রাম নবমী।

আরও পড়ুন- রামনবমীতে স্বয়ং রামকে নিয়েই টানাটানি বিজেপি তৃণমূলের

গত বছরে অর্থাৎ ২০১৭ সালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাম নবমীর শোভাযাত্রা বের করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্য জুড়ে অস্ত্র হাতে গেরুয়া বাহিনীর বিশাল মিছিল। সেই সঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান নজর কেড়েছিল।

চলতি বছরে রাজ্যের রাম নবমী পালন করবে বলে জানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, রাম নবমী নিয়ে বিজেপি-কে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অনেক তৃণমূল নেতা। চলতি মাসের ২৫ তারিখ রাম নবমীর দিনে নিজেদের বিজেপি-র থেকে বড় রাম ভক্ত হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া তৃণমূল।

এই অবস্থায় পিছিয়ে নেই রাজ্যের শিবসেনা নেতৃত্ব। বাল ঠাকরের অনুগামীরাও পশ্চিমবঙ্গে রাম নবমীর শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এই রাজ্যে আহামরি সংগঠন নেই শিবসেনার। তবে, যা আছে তা দিয়েই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে প্রাক্তন এনডিএ শরিক। হুগলির হরিপাল থানা এলাকায় হবে শিবসেনার রাম নবমীর শোভাযাত্রা। চৌধুরী কোল্ড স্টোরেজ থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হবে হরিপাল স্টেশনের কাছে।

শিবসেনার রাম নবমীর মিছিলে ২০০০ মানুষ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলের পশ্চিমবঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “আমাদের শোভাযাত্রায় ২০০০ সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষ অংশ নেবেন। মাইক লাগানো অনেক টোটো এবং চার চাকা গাড়ি থাকবে।” গত বছরে রাম নবমী-র মিছিলে অস্ত্র নিয়ে হেঁটে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অনেক বিজেপি নেতা। শিবসেনার মিছিলে অবশ্য অস্ত্র দেখা যাবে না। তেমনই দাবি করেছেন প্রদীপ ঘোষ। তাঁর মতে, “আমাদের মিছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। কোনও অস্ত্র আমরা নিচ্ছি না।”

রাজনৈতিক দলের রাম নবমী পালন এবং সেই বিশেষ দিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন এখন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের রাম নবমীর দিন থেকে। বিজেপি-র রাজ্য জুড়ে রাম নবমী পালন কর্মসূচি ঘিরে অনেক বিতর্কও হয়েছিল। কিন্তু বছর ঘুরতেই বদলে গিয়েছে চিত্রটা। রামই এখন বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির।