নয়াদিল্লি: মঙ্গলবারই মহারাষ্ট্রে কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছেন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি। গত রবিবার বিজেপিকে রাজ্যপাল সরকার গড়তে ডাকলেও আসন সংখ্যা কম থাকার দরুন সাংবাদিক সম্মেলনে তারা যে সরকার গড়তে অপারগ এই কথাই জানায় পদ্ম শিবির।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দল হিসাবে শিবসেনা এবং এনসিপিকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন রাজ্যপাল। কিন্তু এনসিপির সময় শেষ হওয়ার আগেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেন ভগত সিং কোশিয়ারি।

সরকার গড়ার ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হলেও তাদের শুধু এক দিনের মধ্যে সরকার গড়ার সময়সীমা দেওয়াতে ক্ষুব্ধ শিবসেনা। রাজ্যপালের কাছে আরও ঘণ্টা সময় চান কিন্তু প্রতাখ্যাত হতে হয় তাদের। সরকার গড়তে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা চাইলেও তা নাকচ করে দেন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি। কিন্তু শিবসেনার প্রশ্ন সরকার গড়ার ক্ষেত্রে বিজেপিকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও কেন তাঁদেরকে এই সময়টুকু দেওয়া হল না? রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই বৈষম্যের অভিযোগেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে শিবসেনা।

মঙ্গলবার রাজ্যের রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে একটি আপিল দাখিল করেছে শিবসেনা। রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই মামলার দ্রুত শুনানি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের দল।

এই মামলা প্রসঙ্গে শিবসেনার তরফ থেকে জানানো হয়, ‘রাজ্যের রাজ্যপাল কখনই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করতে পারেন না।’ দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হলেও সরকার গড়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কেন ‘পর্যাপ্ত সময়’ দেওয়া হল না এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শিবসেনা।

মঙ্গলবার এক অন্যরকম সাসপেন্সের সাক্ষী রইল মারাঠাভূমি। ১৯ দিন ধরে সরকার কে গড়বে এই দড়ি টানাটানির মাঝেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ায় বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। বিজেপি, শিবসেনা দুই দলই সরকার গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে সুযোগ পেয়েছিল শরদ পাওয়ারের এনসিপি। সরকার গড়তে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধেও দেন রাজ্যপাল। এই সময়সীমা শেষ হত আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায়। কিন্তু, তার তিন ঘণ্টা আগে কার্যত নাটকীয় ভাবে মহারাষ্ট্রে জারি হল রাষ্ট্রপতি শাসন।

সরকার গড়ার ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কম আছে এমন যুক্তি দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে রবিবারেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বিজেপির পরে সেই দিনই শিবসেনাকে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল। এরপরেই একের পর এক মোড় আসতে শুরু করে মারাঠা রাজনীতিতে। শিবসেনাকে সরকার গড়ার জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। এনসিপির প্রধান শরদ পাওয়ার এবং শিবসেনা সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে বৈঠকও হয়। সরকার গড়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সমর্থন চায় দুই দলই। প্রথমে সমর্থনের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সরকারী ভাবে সমর্থন থেকে পিছিয়ে এসে আলোচনার কথা বলে কংগ্রেস।

অপরদিকে শিবসেনা রাজ্যপালের কাছ থেকে অতিরিক্ত সময় চাইলেও তা প্রত্যাখান করে দেন ভগত সিং কোশিয়ারি। এনসিপিকেও সরকার গড়ার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। তা শেষ হবে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায়। কিন্তু, এত কম সময়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন এনসিপি নেতারা। ফলে রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনীতিবিদরা।

মঙ্গলবার সকালেই অসুস্থ শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতকে দেখতে হাসপাতালে যান এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার। আর এতেই নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। শিবসেনার সঙ্গে এনসিপি এখনও কি রফাসূত্র বের করতে চাইছে এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এর মাঝেই সমস্ত জল্পনা সরিয়ে ৩৫৬ ধারায় সম্মতি দেন রাজ্যপাল।

কংগ্রেস-এনসিপির মধ্যে সরকার গড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল মঙ্গলবার সকাল থেকেই। ২৪ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমার মাঝেই সরকার গড়তে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এনসিপি। শিবসেনা,কংগ্রেস দুই পক্ষের সঙ্গেই সকাল থেকেই বৈঠকে বসছিলেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার। কংগ্রেস-এনসিপিকে সমর্থন করবে শিবসেনা? মারাঠাভূমিতে তৈরি হবে নতুন সমীকরণ? এই ধরনের নানা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল রাজনীতিক মহলে। সরকার গড়ার ক্ষেত্রে বিজেপির ‘অস্বস্তিকর নৈঃশব্দ’ নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। আর এর মাঝেই মহারাষ্ট্রের সিংহাসনে কে বসবেন এই নাটকের যবনিকা কিন্তু লিখলেন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি।