নয়াদিল্লি: দ্বিতীয় মোদী সরকারের জমানাতেই নির্মাণ করতে হবে রাম মন্দির। এই নিয়ে আর কোনও দ্বিমতে যেতে চাইছে না হিন্দুত্ববাদি সংগঠনগুলি। এবারেও অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ না হলে পরিস্থিতি যে ভয়ঙ্কর আকার নেবে তা স্পষ্ট করে দিলেন শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু ছিল রাম মন্দির। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি সমূঝের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। যা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে এনডিএ শরিক দলের মধ্যেই। যদিও বিজেপি শিবিরের দাবি, আইনের জটিলতায় ঝুলে রয়েছে রাম মন্দিরের ভবিষ্যৎ।

বিতর্ক যেমনই হোক না কেন সাফ কথা হচ্ছে প্রথম মোদী সরকারের আমলে অযোধ্যায় রাম মন্দির হয়নি। এই অবস্থায় ফের একবার কেন্দ্রের ক্ষমতা পেয়েছে মোদী সরকার। গত পাঁচ বছরে মন্দির নির্মাণ না হওয়ার কারণে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

এবারেও অযোধ্যা সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেবে বলেই মনে করছেন শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেছেন, “২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে আমরা অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। এবারেও আমরা ভগবান রামের নামেই ভোট চেয়েছি।” একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে ভোটের আগে অযোধ্যায় শিবসেনা সাধু সমাবেশ করেছিল। দলের প্রধান উদ্ভব ঠাকরে নিজে অযোধ্যায় গিয়েছিলেন।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে বিশেষ আশাবাদী শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। যার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে কেন্দ্রে ফের এনডিএ সরকারের প্রতিষ্ঠা পাওয়া। যার মধ্যে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি একার ক্ষমতার পেরিয়ে গিয়েছে ৩০০টির বেশি আসন। যা সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক। সঞ্জ্য রায়ত বলেছেন, “রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়ে এখন আমি খুবই আশাবাদি। মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে।”

এবারেও যদি রাম মন্দির নির্মাণ না হয় তাহলে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ আকার নিতে পারে সেই বিষয়েও আতঙ্কিত শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেছেন, “আবের যদি রাম মন্দির নির্মাণ না হয় তাহলে সাধারণ মানুষের আমাদের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে। রাগের চোটে মানুষ আমাদের জুতো পেটা করতে আসবে।”

চলতি মাসের শেষের দিকে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে বৈঠক ডেকেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ওই সংগঠনের কার্যনির্বাহী সভাপতি অলোক কুমার বলেছেন, “আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দু’টি বিষয়ের উপরে কোনও সমঝোতা করবে না। প্রথম, রামের জন্মভূমিতেই রাম মন্দির নির্মাণ করতে হবে। আর দ্বিতীয় হচ্ছে, অযোধ্যার সাংস্কৃতিক সীমানার মধ্যে কোনও মসজিদ নির্মাণ করা চলবে না।”

অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে এই এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সর্বোচ্চ আদালত। আগামী ১৫ অগস্ট সেই কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প