মুম্বই: মহারাষ্ট্রে ক্ষমতা দখল নিয়ে বাগযুদ্ধ বেড়েই চলেছে বিজেপি এবং শিব সেনার মধ্যে। নির্বাচনের পর থেকেই ৫০:৫০ আসন নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছিল শিবসেনা। আর তারা যে তাদের দাবিতে অটল থাকবে তাও জানিয়েছিল। আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদের বিষয়টিও লিখিত আকারে বিজেপির থেকে চেয়েছিল তারা। তবে শিবসেনার দাবির সামনে মাথা নোয়ায় নি বিজেপি। তারপরে শিবসেনার মুখপত্রে সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের মন্তব্যর পরে বিজেপি ও শিবসেনার পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা হলেও আঁচ পাওয়া গিয়েছিল।

শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতে দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করাতে তিনি হরিয়ানার নব নিযুক্ত ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী দুশন্ত চৌতালার উদাহরণ টেনে বলেন ” এখানে কোনও দুষ্মন্ত নেই, যার বাবা জেলে রয়েছে।” এখানে আমরা রয়েছি যারা রাজনীতিটা ধর্ম এবং সত্যের জন্য করে থাকি। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, শিবসেনার কাছে অন্য পথ রয়েছে তবে তাঁর দল ক্ষমতার লোভী নন। অর্থাৎ নিজেদের দাবি থেকে তারা যে কোনভাবেই সরবেন না তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

গত ২১ অক্টোবর হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রে নির্বাচন হয়েছিল। দুই রাজ্যতেই বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেও ফল প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছিল টলে গিয়েছে বিজেপির খুঁটি। হরিয়ানাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারেনি। উপরন্তু হরিয়ানা নির্বাচনে ঝড়ের মত উঠে এসে নিজেদের অস্ত্বিত্বের জানান দেয় জেজেপি।

তারপরে সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে হরিয়ানাতে তাদের সঙ্গে হাত মেলান বিজেপি সরকার। উপ মুখ্যমন্ত্রী হন জেজেপি প্রধান দুশন্ত চৌতালা। আর মহারাষ্ট্রে জয়লাভ করে বিজেপি শিবসেনা জুটি। কিন্তু মহারাষ্ট্রতেও কম আসন পেয়ে জয়লাভ করে পদ্ম শিবির। হরিয়ানাতে শপথগ্রহন অনুষ্ঠানের আগে দুষ্মন্ত চৌতালার বাবা অজয় চৌতালা দু’সপ্তাহের জন্য বেল পান।

শিবসেনার এই সাংসদ জানিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে বলছেন, শিবসেনার হাতে অন্য অনেক রাস্তা রয়েছে কিন্তু আমরা অন্য রকম দিকে যাব না। শিবসেনা ন্যায়ের জন্য রাজনীতি করেছে। আমরা ক্ষমতালোভী নই। এছাড়াও সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, তাদের তরফ থেকে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও তারা কোনরকম সমঝোতার পথে যেতে রাজি নয়।

নির্বাচনী ফলপ্রকাশ চলাকালীন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছিলেন, সময় এসেছে বিজেপির সঙ্গে আগে থেকে ঠিক হওয়া ৫০: ৫০ সরকার গঠন করার। শনিবার উদ্ধব ঠাকরে দলীয় মিটিংয়ে রাজ্যে সরকার গঠন নিয়ে কথা বলেন। তারপরে শিবসেনার এক নেতা প্রতাপ সারনায়েক জানান, ” অমিত শাহ নির্বাচনের আগে থেকে জানিয়েছিলেন ৫০: ৫০ সরকার গঠন করার বিষয় নিয়ে। সেই মত দুই দলই আড়াই বছর করে রাজ্য চালানোর সুযোগ পাবেন।শিব সেনার থেকেও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের আগেই সমস্যায় জর্জরিত হয়ে রয়েছে বিজেপি তা বোঝা গিয়েছে।