মুম্বই: সময় কথা বলে। মহারাষ্ট্র নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি এবং শিব সেনার নির্বাচনী ফর্মুলার ভার নিয়ে সেরকমভাবেই কথা বলছে শিব সেনার মুখপত্র ‘সামনা’। দেশের আর্থিক শ্লথতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ উঠে এসেছে দলীয় এই মুখপত্রে। উৎসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চলা আর্থিক শ্লথতায় দীপাবলির এবং আতসবাজির আনন্দ নেই।

ধনতেরাস এবং লক্ষ্মীপুজো কেটে গিয়েছে তারপর সামনা’তে বলা হয়েছে, “ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বাকি আছে, যাইহোক আর্থিক শ্লথতায় বাজারে কেনাকাটায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। জিএসটি এবং নোটবন্দি হওয়ার পর দিনে দিনে শুধু অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতির চেয়ে শুধুই খারাপ হচ্ছে।”

ব্যাংক সংকট প্রসঙ্গের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “দীপাবলির আগে মহারাষ্ট্রে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে আনন্দের থেকে নিস্তব্ধতা বেশি।” এই অবস্থায় দেশের এবং মহারাষ্ট্রের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনায় প্রশ্ন তুলেছেন, “দেশে এত নিস্তব্ধতা কেন (ইতনা সন্নাটা কিউ হ্যায়)”।

মহারাষ্ট্র নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সরকার গঠন নিয়ে বিজেপি এবং শিব সেনার সম্পর্কে চির ধরেছে। ফলাফল ঘোষনার পরেই, শিব সেনা প্রধান উদ্ধভ ঠাকরে সংবাদমাধ্যমের সামনেই বিজেপির সঙ্গে শিব সেনার ৫০:৫০ ফর্মুলা নিয়ে নিয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

এই সূত্র অনুযায়ী, বিজেপিকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শিব সেনাকে প্রার্থীকেও আড়াই বছর রাখতে হবে। মহারাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসতে বিজেপি-শিব সেনা জোট বেঁধেছিল। যদিও তাঁদের এই ফর্মুলাতে শিলমোহর দিতে লিখিত চাওয়া হয় শিব সেনার তরফে।

কিন্তু ভোটের ফল বেরোতেই দেখা যায় চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। গত লোকসভা ভোটে ২০০টি আসন পাওয়া বিজেপি এবারে পেয়েছে মাত্র ১০৫টি আসন। অপরদিকে ৫৬টি আসন পেয়ে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকার ফায়দা তুলতে বিজেপির উপর চাপ বাড়াচ্ছে শিবসেনা। আর এর মধ্যেই আদিত্যের নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ওরলিতেই পোস্টার পড়েছে। পোস্টারে লেখা রয়েছে, “শিবসেনার যুব নেতা তথা ভাবী মুখ্যমন্ত্রী আদিত্য ঠাকরেকে অনেক অভিনন্দন”।

এই পোস্টার থেকেই স্পষ্ট শিবসেনার কর্মী সমর্থকরা আদিত্য ঠাকরেকেই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে দেখতে চাইছেন। তবে এই নিয়ে এখনই এগোতে চাইছেন না উদ্ভব ঠাকরে। মুখ্যমন্ত্রীর পদের বদলে বিজেপির থেকে অর্থ কিংবা স্বরাষ্ট্র দফতরের মত কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারেন তিনি। কারণ মরাঠা রাজনীতিতে নবাগত তরুণ আদিত্যকে এখন প্রশাসনিক দফতর সামলানোয় অভিজ্ঞ করে তুলতে চান তিনি। যাতে পরবর্তী ৫ বছরে স্বাভাবিক ভাবেই মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার হিসাবে উঠে আসেন। তাই পোস্টার পড়লেও আদিত্যকে এখনই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসাতে নারাজ শিবসেনা প্রধান উদ্ধভ।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা