মুম্বই: মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার ব্যাপারে শিবসেনা, কংগ্রেস এবং এনসিপি জোট যে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তা বোঝা গিয়েছিল আগেই। তবে সব থেকে বড় প্রশ্ন ছিল প্রথম আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন কে। কেননা চেয়ার যে শিবসেনার দিকেই যাচ্ছে তা বোঝা গিয়েছিল আগেই। তবে কোন নাম সামনে না আসাতে চিন্তার ভাঁজ পড়ছিল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কপালে।

বৃহস্পতিবার সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল আগামী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চেয়ারে বসতে চলেছেন উদ্ধব ঠাকরে। এছাড়াও এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারও রাজ্যর এই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এই বিষয় নিয়ে সম্মতি জানিয়েছিলেন। এছাড়াও শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের নাম ও ভেসে উঠেছিল। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে কে বসবেন তা নিয়ে সংশয় কোনভাবেই কাটছিল না। আর চেয়ারও যে কার দখলে যাবে তা নিয়েও ছিল জোড় জল্পনা।

এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের জন্য যোগ্য হিসেবে যে নামটি উঠে আসছে তা হল একনাথ শিন্দে। দলের শীর্ষস্থানীয় এই নেতা মহারাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছিলেন। আর তাকেই এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য যোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। অধিকাংশ সাংসদ তাঁর জন্য সমর্থন জানিয়েছেন । তবে এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সেনা প্রধান উদ্ধব।

সেনা সাংসদদের নিয়ে এই মুহূর্তে উদ্ধব ঠাকরে বৈঠকে ব্যস্ত। কেননা এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট টালমাটাল হয়ে রয়েছে। জারি রয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। জানা গিয়েছে বৈঠকের পরে সেনা সাংসদদের বেনামী জায়গাতে স্থানান্তরিত করা হবে। যদিও প্রাথমিকভাবে সকল সাংসদরা উদ্ধব ঠাকরের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে সমর্থন জানিয়েছিলন। কিন্তু বৈঠকের পরে উদ্ধব জানিয়েছেন তিনি তাঁর বাবা তথা শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরেকে কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবে শিব সৈনিক। তিনি নিজের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের পদ দাবি করেননি। তার পরেই শিবসেনার শীর্ষ স্থানীয় নেতারা একনাথ শিন্দের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। শুধু তাই নয় বাকি ক্যাবিনেট সদস্য কারা হবেন টা নিয়েও একটি তালিকা সামনে এসেছে।

নির্বাচনে শিবসেনা ৫৬ টি আসন পেয়েছিলেন। কংগ্রেস এবং এনসিপির দখলে ছিল যথাক্রমে ৪৪ টি এবং ৫৪ টি আসন। সকার গঠন করা নিয়ে শিবসেনা বিজেপি সং ত্যাগ করে জোট করেছিলেন কংগ্রেস এবং এনসিপির সঙ্গে। তাঁদের এই জোট ‘মহা বিকাশ আঘাদি’ মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন।

১২ নভেম্বর থেকে মহারাষ্ট্রে জারি করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি শাসন। যা এখনও চলছে। নির্বাচনের পরে এই রাজ্যতে সরকার গঠন করা নিয়ে শিবসেনার দাবি মানতে রাজি হয়নি গেরুয়া শিবির। দলের তরফ থেকে এই রাজ্যর আগামী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফড়নবীশের নাম ঘোষণা করেছিলেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। যদিও পরবর্তীকালে এই রাজ্যতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করা নিয়ে পিছিয়ে এসেছিল বিজেপি শিবির। পরবর্তীকালে এই রাজ্যতে স্থায়ী সরকার গঠন করার জন্য সেনার সঙ্গে জোট বাধেন কংগ্রেস এবং এনসিপি।