অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়, ব্রহ্মপুত্র নদীর ধারে। ভারতীয় রেলে চাকরি করতেন বাবা। শৈশব-যৌবন কেটেছে নানান ঠাঁইয়ে। কলেজ স্তরের পড়াশোনা কলকাতায়। স্নাতকোত্তর স্তরে পড়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বৃত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা। এরপরে একমাত্র লেখাই হয়ে ওঠে তাঁর সম সময়ের আশ্রয়। প্রথম উপন্যাস ‘ঘুণপোকা’ তাঁর কীর্তিপথকে প্রশস্থ করে দেয়।

১৯৮৯ সালে ‘মানবজমিন’ উপন্যাসের জন্য অর্জন করেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। ছোটদের জন্য অবিরাম লিখেছেন। শিশুকিশোর সাহিত্যের অনন্য কৃতির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৮৫ সালে তাঁকে বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কার দেয়।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। দেশভাগ নিয়ে তাঁর বেদনা নানা লেখায় প্রকাশ পেয়েছে। এবার ঢাকায় গিয়ে এক সংবাদমাধ্যামকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন।

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আলাদা না হয়ে গেলে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রভাষা হত বাংলা।” কিছুদিন আগেই অমিত শাহের ‘এক দেশ, এক ভাষা’ পদক্ষেপের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল সারা দেশ। ঠিক তারপরেই শীর্ষেন্দু বাবুর এমন বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সাক্ষাৎকারটিতে তিনি আরও বলেন, “বাংলা ভারতের সেকেন্ড লারজেস্ট ল্যাঙ্গুয়েজ। হিন্দি ভাষার পরেই বাংলা। বাংলাদেশ যদি আমাদের সঙ্গে থাকত, তবে হিন্দির চেয়ে আমরা এগিয়ে থাকতাম।”