নয়াদিল্লি: প্রতিবাদ এখন সর্বত্র। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ জানালেন উর্দু লেখিকা তথা সাংবাদিক শিরিন দলভি। লোকসভার পর রাজ্যসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব বিল। এরপর রাষ্ট্রপতি রাধানাথ কোবিন্দ তাতে শিলমোহর দিয়েছেন। ওই বিল অনুযায়ী সারা পৃথিবীর মুসলিমদের এ দেশে ঠাঁই দেওয়া সম্ভব নয়। এরই প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে পাওয়া সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফেরালেন উর্দু লেখিকা।

নিজের সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতেই এই পুরস্কার ফেরালেন শিরিন দলভি। ২০১১ সালে সাহিত্য সৃষ্টিতে অবদানের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এবার সেই পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে নাগরিক সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ জানালেন তিনি। শিরিনের মতে, এই বিল বিভেদ মূলক এবং বৈষম্য সৃষ্টিকারী। এর মধ্যে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আক্রমণ এসেছে।

সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উর্দু লেখিকা। এর আগে একটি ফ্রেঞ্চ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিতর্কিত কার্টুন নিজের পত্রিকায় পুনঃপ্রকাশ করে সমালোচিত হয়েছিলেন দলভি। সেই সময় মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার এই লেখিকার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। দিন দুয়েক আগেই ৭২৬ জন বুদ্ধিজীবীর স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদ-বিবৃতি জনসমক্ষে এসেছে। সারা দেশেই এখন এই বিলের বিপক্ষে জোড়াল প্রতিবাদ। এরই মধ্যে শিরিন দলভির সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফেরানো প্রতিবাদের এক নতুন সংযোজন।

নিজের পুরস্কার ফেরানো প্রসঙ্গে শিরিন দলভি বলেছেন, সরকার নাগরিক বিল পাশ করে ফেলছে। এ কথা শুনে আমি স্তম্ভিত। তাই, ২০১১ সালে পাওয়া সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছি। নিজের সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সংবিধান ও সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে।