ছবি সৌজন্য - সৌমী বণিক ও শিবকৃষ্ণ দেবোত্তর এস্টেট

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আর কত কি পরিবর্তন দেখাবে এই করোনাকাল। দুর্গাপুজোর দহরম মহরম যে এবারে নিশ্চিতভাবেই শহরে কমছে তা স্পষ্ট। বনেদি বাড়িগুলিও নিজেদের গুটোনো শুরু করেছে বাহিরস্পর্শ থেকে। শোভাবাজার রাজবাড়ী আগেই জানিয়েছে তা করোনাবিধির কথা। কিন্তু শিবকৃষ্ণ দাঁ পরিবার আরও একধাপ এগিয়ে গেল। নিজেদের বাহির স্পর্শ থেকে তা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তো তারা নিয়েইছে সঙ্গে পুজোর দশমীতে বড় চরণ ছোঁয়া থেকে কোলাকুলি একদম বাদের খাতায় দিয়ে দিল তারা।

শিবকৃষ্ণ দেবোত্তর এস্টেটের সেবাইত ও ট্রাস্টি সদস্য অসীম চন্দ্র দাঁ জানিয়েছেন , ‘এ বছর শ্রদ্ধেয় গোকুল চন্দ্র দাঁ এর আরম্ভ করা এই ১৮১তম দুর্গোৎসব অতিমারীর কারনে সরকারি বিধিনিষেধ ও সকল ব্যক্তির সুরক্ষার কারনে খানিকটা ব্যতিক্রম। বছরের পর বছর ধরে যে আত্মীয় পরিজন, বন্ধুবান্ধব, অতিথি সমাগমে যে দুর্গাপুজো উদযাপিত হয়েছে, এই বছর তাঁদের হার্দিক উপস্থিতি বঞ্চিত রাখতে হছে নিরাপত্তার কারনে।’ এরপরেই তাঁরা জানাচ্ছেন , ‘দশমীতে পুরোহিত বা বয়োজ্যেষ্ঠদের চরণস্পর্শ করা, নির্মাল্য নেওয়া বা পরিবারপরিজনের মধ্যে কোলাকুলি থেকে এবার বিরত থাকতে হবে। মায়ের বিদায়বরণ এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পরিবারের সদস্যগন ও তাদের কর্মীর্বৃন্দ, শিবকৃষ্ণ দেবোত্তর এস্টেট এর কর্মীর্বৃন্দ এবং পূজার্চনা র সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ব্যাক্তিবর্গ ছাড়া নিরাপত্তার কারনে অনান্য কোনো ব্যাক্তিবর্গদের সামিল করা যাচ্ছে না। নিরপত্তার কারনে বরণের পর সিঁদুরখেলার প্রথা এবারের জন্য বিবর্জিত থাকছে । শুধুমাত্র সার্বিক মঙ্গল কামনাতেই সম্পূর্ণ হবে এবারের দুর্গোৎসব।’

সেবাইতদের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত সমস্ত পুজোর আচারের বিধিও। তাঁরা জানিয়েছেন , ‘মহাসপ্তমীর দিন কলাবৌ স্নান গঙ্গার ঘাটের পরিবর্তে বাড়ির উঠোনে আগে থেকেই জমা করে রাখা গঙ্গাজলে ই সম্পন্ন হবে। দেবীঘটস্হাপনাও একই ভাবে আগে থেকে তুলে রাখা গঙ্গা জলে হবে।’ দাঁ পরিবারের পুজোয়, পূজার ফুল জীবাণুমুক্ত করে শুধুমাত্র পূজার প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে।

এ বছর পুরোহিত বাড়ির সকলের হয়ে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করবেন। অঞ্জলি নিবেদিত হবে শুধুমাত্র মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে। এটির উদ্দেশ্য ফুল নেওয়া দেওয়ার পারস্পরিক স্পর্শ এড়ানো। ব্যক্তিগত ভাবে কেউ ফুলের মালা বা মিষ্টি অর্পন করতে পারবেন না। ফল অর্পন করতে ইচ্ছুক হলে, ফল জীবাণুমুক্ত করে পরবর্তী সময়ে মা দুর্গা কে অর্পন করা হবে। সাধারণত নৈবেদ্য ও ভূজ্জি হয় চাল,ডাল, ফল, আনাজ ঘি মধু ও মশলা ইত্যাদি সহযোগে। এবার নৈবেদ্যে ও ভুজ্জি অর্পিত হবে গোটা ফল, গোটা আনাজ, চাল, ডাল, মধু , ঘি ইত্যাদি দিয়ে। এবার বিতরণের জন্য নৈবেদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে না। ভোগের জন্য প্রস্তুত হবে লুচি,পাপড় ভাজা, নিমকি,কচুরি, ক্ষীর,দই ,মিষ্টি, আর এইসব ভোগসামগ্রী তৈরী হবে পূজোবাড়িতেই। অষ্টমীতে ধুনো পোড়ানো হলেও, নিরাপত্তার কারনে, যিনি ধুনো পোড়াবেন, প্রথা অনুযায়ী তার কোলে বসা থেকে বিরত থাকতে হবে এবার সকলকে। সন্ধ্যিপূজা সংঘটিত হবে শুধুমাত্র পারিবারিক সদস্যদের নিয়ে।’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।