লখনউ: দাড়ি নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়লেন উত্তরপ্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াসিম রিজভি৷ একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, যারা দাড়ি রেখে গোঁফ ছেঁটে ফেলেছে তারাই ভারত এবং বিশ্বের কাছে আতঙ্কের মুখ হয়ে ওঠে৷ এরাই সাধারণের মনে ভয় ছড়িয়ে দেয়৷

তাঁর এই ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে সংবাদ মাধ্যম থেকে সোশ্যাল সাইটে, যেখানে তিনি জানিয়েছেন, দাড়ি রাখা হল ‘sunnah’ (অর্থাৎ, ইসলামে যেভাবে জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে)৷ যারা দাড়ি রাখে অথচ গোঁফ কেটে ফেলে তাদের মধ্যে কোনও সন্ত্রাস বিস্তারের অভিসন্ধি থাকে৷ শুধু তাই নয়, এর আগে অযোধ্যায় রাম মন্দির ইস্যুকে সমর্থন করে মন্তব্য করায় বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি৷ মাদ্রাসাগুলিকে সন্ত্রাসবাদী তৈরির আখড়া বলে মুসলিম সম্প্রদায়ের রোষেও পড়েন৷ তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ১০ লক্ষ টাকা৷

পড়ুন: কপালে চন্দনের টিপ থাকায় ছাত্রীকে বহিষ্কার করল মাদ্রাসা

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই, অল্প বয়সেই স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ আসায় কপালে পরতে হয়েছিল হলুদ চন্দনের টিপ। আর সেই অপরাধেই পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে বহিষ্কার করে মাদ্রাসা। ঘটনাটি ঘটে কেরলে। সমগ্র ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মেয়েটির বাবা নিজের ক্ষোভ উগরে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। মেয়েকে নিয়ে উমর মালিয়লের সেই ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় নেয়নি।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে বিতর্ক। ফেসবুক পোস্টে মালয়ালম ভাষায় তিনি লিখেছেন যে তাঁর মেয়ে পড়াশোনা ছাড়াও, নাটক-গান-নাচে অত্যন্ত পারদর্শী এবং অনেক পুরস্কারও এনেছে সে৷ কিন্তু শুধুমাত্র চন্দনের টিপ পরার জন্য মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে৷ তিনি আরও জানান যে, স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করার কারণে ওই চন্দনের টিপ পরতে হয়েছিল। পরের দিন মাদ্রাসায় যাওয়ার আগে তা আর তোলা হয়নি। সেই কারণে ওই টিপ কপালে নিয়েই মাদ্রাসায় গিয়েছিল মেয়েটি। আর এতেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চরম রোষের মুখে পড়তে হল তাকে৷ শেষমেশ মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হল দশ বছরের ওই মেধাবী ছাত্রীকে৷ শুধু তাই নয়, মেয়েটির অভিভাবকদের ডেকে তীব্র তিরস্কার করা হয়। এরপরেই নেওয়া হয় চরম সিদ্ধান্ত।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, শরিয়ত আইন অনুযায়ী ইসলাম ধর্মে চন্দন ব্যবহারের অধিকার নেই৷ ফলে মেয়েটি ও তার পরিবার বড় অপরাধ করেছে। অনেকে আবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। যদিও সেই সংখ্যা অনেক কম। অধিকাংশেরই বক্তব্য, মেয়েটি তো সামান্য চন্দনের টিপ পরেছিল। তাতেই এত বড় অপরাধ হয়ে গেল?”