নয়াদিল্লি:  আজ সোমবার ১০ই অগাষ্ট শীতল সপ্তমী। অনেকেই হয়ত জানেন না, এই দিন আগের দিনের রান্না করা ঠান্ডা খাবার খেতে হয়। শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনের একদিন আগে অর্থাৎ জন্মাষ্টমীর একদিন আগে পালিত হয় শীতল সপ্তমী। এই অনুষ্ঠানের একাধিক নাম রয়েছে। গুজরাতে একে শীতল সতম বা শীতলা সপ্তম বলে ডাকা হয়। হিন্দু ক্যালেন্ডারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এই রীতি। কৃষ্ণপক্ষের সপ্তম দিনে এটি পালন করা হয়।

শীতলা মাকে তুষ্ট করাই এই ব্রত পালনের লক্ষ্য। শীতলা সপ্তমীতে কোনও রান্না করা হয় না। আগের দিনের করা ঠান্ডা খাবার খেতে হয় এই দিনে। এই রীতি বা নিয়মের পিছনে বিশেষ কোনও আধ্যাত্মিক কারণ থাকতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক কারণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এই শীতল সপ্তমী বা শীতলা সপ্তমী এমন সময়ে পালন করা হয়, যা বর্ষাকালের মাঝামাঝি, এই সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে। সেক্ষেত্রে আগের দিনের রান্না করা ঠান্ডা খাবার যদি খাওয়া হয় তা আমাদের শরীরের পাচন তন্ত্রের ওপর বেশি চাপ ফেলে না।

ঠান্ডা খাবার সহজপাচ্য করে ও তেল ঝাল মশলা ছাড়া রান্না করলে শরীরে পুষ্টি যোগায়। তাই এই খাবার খাওয়া শরীরে জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। মরশুমের দিকে নজর রেখেই শীতলা সপ্তমীকে এই ধরণের খাবারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

এই দিন ঘরের তাপমাত্রার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে জলের তাপমাত্রা নির্ধারণ করে স্নান করতে হয়। কোনও গরম জল ব্যবহার করা যায় না। এর পিছনেও বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। ঠান্ডা জলে স্নান ও ঠান্ডা খাবার খাওয়াতে শরীর শীতল হয়। এতে মরশুমে খারাপ প্রভাব দেহের ওপর পড়ে না। শরীর সুস্থ থাকে।

শীতলা মায়ের পোশাক পরিচ্ছদেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। একহাতে শীতলা মায়ের এক হাতে ঝাড়ু থাকে, যা পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে মানা হয়। পরিধেয় বস্ত্র নিমপাতার আস্তরণ। যা শুদ্ধতার প্রতীক। তার হাতে থাকে কলস। যা জীবনধারণের প্রতীক।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।